সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের জনবহুল ও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রবণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের মতে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টা এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল, সেসব এলাকায় এখন আগের মতো পরিস্থিতি চোখে পড়ে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হয়েছে, তা নির্ধারণে অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফতুল্লা থানার উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকার বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়েই বর্তমান পুলিশ সুপার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়েই বাসর রাতে বিড়াল মেরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গত বহু বছর ধরে মাদক ব্যবসা ছিল। কয়েক বছর আগেও প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে মাদক বিক্রি হতে দেখা যেত। কিন্তু এখন আর আগের মতো তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ সুপার মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এটি তাঁর আন্তরিকতার ফল।’
ফতুল্লা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন হাজী মোহাম্মদ শহীদুল হক। তিনি বলেন, ওসির আচরণ ভালো বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তিনি আন্তরিক বলে মনে করেন। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুরো পুলিশ দলের সাফল্য কামনা করেন তিনি।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফতুল্লা থানার মুসলিমনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন। তিনিও ফতুল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এলাকার মানুষ আরও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁদের মতে, জনবহুল এই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাসের কারণে এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পুলিশি তৎপরতা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই চলবে না, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোও জরুরি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ও ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে তৎপরতার কথা তাঁরা বলছেন, তা অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন এবং অপরাধের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই পরিবেশও নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ ফতুল্লা গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিকতার পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের জনবহুল ও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ফতুল্লা থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রবণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের মতে, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টা এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় যেসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ ছিল, সেসব এলাকায় এখন আগের মতো পরিস্থিতি চোখে পড়ে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হয়েছে, তা নির্ধারণে অপরাধ ও মাদকসংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যানও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফতুল্লা থানার উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকার বাসিন্দা হাজী মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়েই বর্তমান পুলিশ সুপার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘নারায়ণগঞ্জের বর্তমান পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জে যোগ দিয়েই বাসর রাতে বিড়াল মেরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় গত বহু বছর ধরে মাদক ব্যবসা ছিল। কয়েক বছর আগেও প্রকাশ্যে রাস্তাঘাটে মাদক বিক্রি হতে দেখা যেত। কিন্তু এখন আর আগের মতো তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। পুলিশ সুপার মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। এটি তাঁর আন্তরিকতার ফল।’
ফতুল্লা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন হাজী মোহাম্মদ শহীদুল হক। তিনি বলেন, ওসির আচরণ ভালো বলে তিনি জানতে পেরেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তিনি আন্তরিক বলে মনে করেন। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুরো পুলিশ দলের সাফল্য কামনা করেন তিনি।
একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফতুল্লা থানার মুসলিমনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন। তিনিও ফতুল্লার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এলাকার মানুষ আরও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা গেছে। তাঁদের মতে, জনবহুল এই এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পাঞ্চল, ঘনবসতি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাসের কারণে এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পুলিশি তৎপরতা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই চলবে না, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোও জরুরি। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ও ফতুল্লা থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে তৎপরতার কথা তাঁরা বলছেন, তা অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন এবং অপরাধের বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই পরিবেশও নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাবাসীর মতে, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ ফতুল্লা গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিকতার পাশাপাশি নাগরিকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন