দৈনিক সোজা সাপটা

সোজা সাপটা হাইলাইটস

নিরঙ্কুশ বিজয়েও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

নিরঙ্কুশ বিজয়েও অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জেলা ইউনিটের প্রথম নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বাধীন নবী-টিপু প্যানেল। কার্যনির্বাহী কমিটির পাঁচটি সদস্য পদসহ সেক্রেটারি পদেও জয় পেয়েছেন এ প্যানেলের প্রার্থীরা। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় উতরে যান এ প্যানেলের প্রার্থী। তবে নির্বাচন ঘিরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জাল ভোট ও ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী ও ভোটার।গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর নারায়ণগঞ্জ শহরে রেড ক্রিসেন্টের জেলা ইউনিটের এ নির্বাচন নিয়ে বেশ আলোচনা ছিল।স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির ৫১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হলো। এর আগে গত আগস্টে তিন মাসের জন্য একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।ওই কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. নবী হোসেন, সদস্য সচিব ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং সদস্য ছিলেন রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। এবারের নির্বাচনেও তাঁরা নিজ নিজ পদে বিজয়ী হয়েছেন।শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা পরিষদ কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ চলে। মোট ৯৯৭ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৩৩৮ জন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ।সেক্রেটারি পদে ১৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম খান রেজা পেয়েছেন ১৫৪ ভোট।কার্যনির্বাহী কমিটির পাঁচটি সদস্য পদেও জয় পেয়েছেন নবী-টিপু প্যানেলের প্রার্থীরা। এ পদে প্রত্যেক ভোটার পাঁচজন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সর্বোচ্চ ২৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। অন্য নির্বাচিত সদস্যরা হলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির (২৮১ ভোট), ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন (২১৮ ভোট) ও অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন (২৭৫ ভোট), ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী (২৬৩ ভোট)।এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান। তিনি পেয়েছেন ১১০ ভোট। মো. হারুন অর রশীদ খান পেয়েছেন ৯১ ভোট এবং মোহাম্মদ নাজমুল হক পেয়েছেন ৮৭ ভোট।ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নবী হোসেন। অন্যদিকে, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ পদাধিকার বলে রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি এ নির্বাচনের পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও প্রার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট চান এবং একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভোট দিতে ও নির্বাচন দেখতে কেন্দ্রে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও এনডিএ চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ এ সংস্থার সদস্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।তবে দুপুরের দিকে বৃষ্টির পর ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ বদলে যায়। জেলা পরিষদ ভবনের ভেতরে প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে দেখা যায়। এমনকি ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও প্রার্থীদের প্রবেশ করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মাইকে একাধিকবার ঘোষণা দিলেও প্রার্থীরা সরে যাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।এ সময় এক প্রার্থী জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করার দাবি করেন। তবে পরে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।ভোট দিতে এসে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি বলেন, নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল। ভোটার তালিকায় সমস্যা ছিল এবং ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা রয়েছে। অযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অধীনে ভোট দিতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ফল ঘোষণার আগে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন সেক্রেটারি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম খান রেজা। তাঁর অভিযোগ, ভোট দেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের দাবি জানানো হলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এনআইডি ছাড়াই কয়েকজনকে ব্যালট দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, ভোটার তালিকার একাধিক সংস্করণ থাকায় অনেকে কেন্দ্রে এসে নিজেদের নাম ও ক্রমিক নম্বর খুঁজে পাননি। কারও নাম তালিকায় থাকলেও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যে অসংগতি ছিল। আবার কয়েকজন ভোটার কেন্দ্রে এসে জানতে পারেন, তাঁদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।রেজাউল করিম খানের ভাষ্য, বৃষ্টির আগ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু বৃষ্টির পর অনিয়ম বেড়ে যায়। জাল ভোট দিতে আসা দুই-তিনজনকে শনাক্ত করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনকে কেন্দ্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করেন তরুণ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হানও। তিনি বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্রে সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশ ছিল। তবে শুরুতে কেন্দ্রের ভেতরে প্রার্থীদের লোকজনের অবস্থান ও ভোট চাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকলেও পরে তা শিথিল করা হয়।নিরব রায়হানের অভিযোগ, একপর্যায়ে প্রার্থীদের লোকজন ভোট দেওয়ার বুথ পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পান। বৃষ্টির পর ভোটগ্রহণের বুথগুলো ভেতরে নেওয়া হলে তাঁর এজেন্টরা প্রায় ১৫ জনকে ভুয়া ভোটার হিসেবে শনাক্ত করে বের করে দেন। কয়েকজন ভোটার নিজেদের বাবার নাম বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, তাঁর এক ভোটার চাকরি থেকে দ্রুত কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে গেলে জানতে পারেন, তাঁর ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত দুটি এক্স-স্ট্যান্ড ভেঙে ফেলা হয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. মামুন মাহমুদ। তিনি বলেন, সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।মামুন মাহমুদ আরও বলেন, ৫১ বছরের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এটি প্রথম নির্বাচন। ঐতিহাসিক বিবেচনায় দিনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। নির্বাচিত ব্যক্তিরা সমাজসেবায় ভূমিকা রাখবেন। আর যারা নির্বাচিত হতে পারেননি, তাঁরাও আজীবন সদস্য হিসেবে নির্বাচিতদের সঙ্গে মিলেমিশে জনসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন অধ্যাপক বদরুননাহার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুন নূর বাঁধন, ব্যবসায়ী নেতা মো. সোহেল আক্তার সোহান এবং জেলা বিএনপির সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুল।
৪ ঘন্টা আগে

আদালতের আদেশে বৈধ কমিটি বহাল‎

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুরে সমবায় ভিত্তিতে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী ‘একতা সুপার মার্কেট’ অবৈধভাবে জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পুত্রের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চালানো এই দখলের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বস্তি পেয়েছে বৈধ পরিচালনা পর্ষদ। আদালত দখলদার চক্রের আবেদন খারিজ করে পূর্বের বৈধ কমিটির রায় বহাল রেখেছেন। এদিকে মার্কেট দখল, লুটপাট ও ব্যবসায়ীদের হুমকির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দপ্তরেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।‎আদালত সূত্র জানায়, একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে অবৈধ দাবি করে দখলদার চক্রের পক্ষ থেকে আমিনুল গং নতুন নির্বাচনের আবেদন জানিয়ে আদালতে রিভিশন আপিল করেন। তবে গত ১৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪-এর বিচারক নিভানা খায়ের জেসী এই আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে বন্দর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের পূর্বের রায় বহাল থাকে। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি নির্বাচিত এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ থাকা ১২ সদস্যবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটিই বৈধ হিসেবে বহাল রইল। অন্যদিকে বর্তমান দখলদারদের অবস্থান আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।‎আদালতের রায়ের পর বৈধ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে জানানো হয়েছে, অবৈধ দখলদারদের কোনো দোকান ভাড়া বা অগ্রিম অর্থ দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে।‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন, তার ভাগিনা সাকিব রায়হান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে ২০০ জনেরও বেশি বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী মার্কেটে তাণ্ডব চালায়। তাদের সাথে সরাসরি অংশ নেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা ও আজমেরী ওসমানের সহযোগী খলিল মেম্বারের বাহিনী।‎সন্ত্রাসীরা সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর, নথিপত্র বিনষ্ট এবং নগদ টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া মার্কেটের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী (এলিট ফোর্স) ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মারধর করে বের করে দিয়ে কার্যালয়টি দখল করে নেওয়া হয়।‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলের পর থেকে মার্কেটের ছাদে রাতে মহড়া ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে এবং ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।‎মার্কেটের নিচতলার ‘মেসার্স ময়মুনা আক্তার ড্রাগ হাউজ’-এর মালিক ও মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. কাবিল হোসেন বলেন, “দখলের পর থেকে চাঁদার দাবিতে আমার প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল থাকা ওষুধের দোকানটি জোরপূর্বক তালা মেরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।” এছাড়া মার্কেটের সুপারভাইজার ও মদনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গিয়ে ১১টি মামলার শিকার হয়েছি। আর আজ নিজ দলের নেতারাই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আমাদের রুটি-রুজির জায়গা দখল করছে। রাতে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হচ্ছে।”‎মার্কেট অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং বন্ধ দোকান খুলে দেওয়ার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী দোকান মালিক কাবিল হোসেন। অভিযোগে আবুল কাউসার আশা, মাজহারুল ইসলাম হিরন ও আওয়ামী সন্ত্রাসী খলিল মেম্বারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এর আগে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও অনুরূপ অভিযোগ দায়ের করা হয়।‎একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন জানান, ১৯৯৭ সালে ১০১ জন সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে জমি ক্রয় করেন এবং ২০০০ সালে মার্কেট পরিচালনার স্বার্থে সমবায় সমিতি (নিবন্ধন নং- ৩৩৬) গঠন করা হয়। সমবায় আইন মেনে প্রতি ৩ বছর পরপর নিয়মিত নির্বাচন ও সরকারি অডিট হয়ে আসছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকা সত্ত্বেও হিরন রাজনৈতিক পেশিশক্তি খাটিয়ে মার্কেটটি দখলে নিয়েছেন, অথচ তিনি বা তার সহযোগীরা সমিতির সাধারণ সদস্যও নন।‎এদিকে গত ৮ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন এমপির ছেলে আবুল কাউসার আশাকে নিয়ে মার্কেটে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, মার্কেটে ‘স্বৈরাচারের দোসরদের’ ঠেকাতে তারা গিয়েছিলেন। তবে সমবায় সমিতির বৈধ নথি, সদস্য তালিকা ও আদালতের রায়ের সামনে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মিথ্যাচার বলে আখ্যা দিয়েছেন বৈধ কমিটির সদস্যরা। সদস্য না হয়েও কেন তিনি এমন পদক্ষেপ নিলেন—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেননি হিরন।‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর আগে এএসপি ও ওসির নাম ভাঙিয়ে অর্থ দাবির একটি অডিও ফাঁস হলে তাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আন্দোলন চলাকালে নিষ্ক্রিয় থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্য রাখা, অবৈধ গরুর হাটের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে বন্দর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশ তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানিয়ে আসছিল।‎স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির তৃণমূলের অভিযোগ, দলের ক্লিন ইমেজের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করে হিরন-আশা চক্র পুরো মদনপুর এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছে। এ অবস্থায় আইন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ী ও সমিতির সদস্যরা।

আদালতের আদেশে বৈধ কমিটি বহাল‎
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ এএম
বিএনপি সরকার কতোটুকু সফল বলে মনে করেন?

বিএনপি সরকার কতোটুকু সফল বলে মনে করেন?

  শতভাগ
  কিছুটা
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৮ জন
কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !