বন্দর উপজেলার মদনপুরে অবস্থিত একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে অবৈধ দাবি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে মার্কেটটি দখলের অভিযোগ করেছিলেন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। এবার আদালতের রায়েও বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধতা মিলেছে।
একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান অবৈধ দখলদার আমিনুল গংদের নতুন নির্বাচন দাবি করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দায়ের করা আবেদন না মঞ্জুর করে দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় তাদের এমন আবেদন না মঞ্জুর করলো নারায়নণগঞ্জ আদালত।
সোমবার ১৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪ আর বিচারক নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ জারি করেছেন।
আদেশে গত ১৩ অক্টোবর বর্তমান সভাপতি পদ বাতিল চেয়ে আমিনুল গংদের করা দ্বিতীয় দফার রিভিশন আপিল নামঞ্জুর করে প্রথম দফার দেওয়ানী মামলা নং ১৬০/২০২৪ এর ঘোষিত ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রায় বহাল রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।
তৎকালীন সময় উক্ত মামলাটির রায় ঘোষণা করে ছিলেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, বন্দর এর বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি।
ওই রায়ে উল্লেখ করা হয় অত্র মামলার বিচার্য্য বিষয় ১৯/১/২৪ তারিখ নির্বাচনটি বে-আইনী কিনা বা পরবর্তী কাগজাবলী এবং সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা বিচার্য্যরে বিষয়। ফলে এ পর্যায়ে উক্ত নির্বাচনটি সঠিক কিনা তা নির্ণয় বিচার্য্য বিষয়। নির্বাচনে নির্বাচিত ১ নং বিবাদীকে সভাপতির পদ তাৎক্ষণিক বাতিলের কোনো বা সুযোগ না থাকায় দরখাস্তটি নামঞ্জুর করে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল জবাব দাখিল করার আদেশ প্রদান করেন।
সোমবার ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদালতের আদেশের মধ্য দিয়ে একতা সুপার মার্কেট পরিচালনাকারী কমিটি একতা সমবায় সমিতির সভাপতি পদ বহাল থাকায় মার্কেট বর্তমানে যারা দখল করে রেখেছে তারা অবৈধ দখলদার হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের এই রায়ের পর মামলার বিষয়ে আবেদনকারী আমিনুল হকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মামলার অপর বাদী হিরালাল দাস বলেন, “আমরা আদালতের এ রায় মানি না। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।” আদালত প্রথম দফায় আবেদন নামঞ্জুর করার পরও মার্কেটের দখল নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমরা তো আদালতের রায় মানি না। দুই একদিন পর এ ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করব।”
"আদালতে রায় পাওয়ার পর বর্তমান পরিচালনা কমিটি জানান, দোকানদারবৃন্দ, আমাদের মার্কেটের সার্বিক শৃঙ্খলার স্বার্থে বর্তমান বৈধ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
মার্কেটটি যারা বেআইনি ও অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে, আপনারা যদি তাদেরকে কোনো প্রকার দোকান ভাড়া প্রদান করেন, তবে তার যাবতীয় দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আপনাকেই বহন করতে হবে। কারণ, উক্ত দখলদারেরা সম্পূর্ণ অবৈধ।
পাশাপাশি, অননুমোদিত বা অবৈধভাবে দখলকৃত দোকানে অগ্রিম (এডভান্স) টাকা লেনদেনের বিষয়েও আপনাদের নিজ দায়িত্বে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক লেনদেনের কোনো দায়ভার বর্তমান বৈধ পরিচালনা কমিটি গ্রহণ করবে না। মার্কেট ও আপনার নিজস্ব ব্যবসার নিরাপত্তা রক্ষার্থে সকলকে বৈধ ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, এর আগে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই মার্কেটের কোনো দোকান মালিক কিংবা সমিতির সদস্য না হয়েও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার প্রভাবে পেশিশক্তি ব্যবহার করেন। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা খলিল মেম্বার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহায়তায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকানদারদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
বন্দর উপজেলার মদনপুরে অবস্থিত একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান পরিচালনা কমিটিকে অবৈধ দাবি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে মার্কেটটি দখলের অভিযোগ করেছিলেন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। এবার আদালতের রায়েও বর্তমান পরিচালনা কমিটির বৈধতা মিলেছে।
একতা সুপার মার্কেটের বর্তমান অবৈধ দখলদার আমিনুল গংদের নতুন নির্বাচন দাবি করে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দায়ের করা আবেদন না মঞ্জুর করে দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় তাদের এমন আবেদন না মঞ্জুর করলো নারায়নণগঞ্জ আদালত।
সোমবার ১৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত-৪ আর বিচারক নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ জারি করেছেন।
আদেশে গত ১৩ অক্টোবর বর্তমান সভাপতি পদ বাতিল চেয়ে আমিনুল গংদের করা দ্বিতীয় দফার রিভিশন আপিল নামঞ্জুর করে প্রথম দফার দেওয়ানী মামলা নং ১৬০/২০২৪ এর ঘোষিত ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত রায় বহাল রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন।
তৎকালীন সময় উক্ত মামলাটির রায় ঘোষণা করে ছিলেন সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, বন্দর এর বিচারক শারমিন আক্তার পিংকি।
ওই রায়ে উল্লেখ করা হয় অত্র মামলার বিচার্য্য বিষয় ১৯/১/২৪ তারিখ নির্বাচনটি বে-আইনী কিনা বা পরবর্তী কাগজাবলী এবং সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা বিচার্য্যরে বিষয়। ফলে এ পর্যায়ে উক্ত নির্বাচনটি সঠিক কিনা তা নির্ণয় বিচার্য্য বিষয়। নির্বাচনে নির্বাচিত ১ নং বিবাদীকে সভাপতির পদ তাৎক্ষণিক বাতিলের কোনো বা সুযোগ না থাকায় দরখাস্তটি নামঞ্জুর করে ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল জবাব দাখিল করার আদেশ প্রদান করেন।
সোমবার ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদালতের আদেশের মধ্য দিয়ে একতা সুপার মার্কেট পরিচালনাকারী কমিটি একতা সমবায় সমিতির সভাপতি পদ বহাল থাকায় মার্কেট বর্তমানে যারা দখল করে রেখেছে তারা অবৈধ দখলদার হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের এই রায়ের পর মামলার বিষয়ে আবেদনকারী আমিনুল হকের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মামলার অপর বাদী হিরালাল দাস বলেন, “আমরা আদালতের এ রায় মানি না। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো।” আদালত প্রথম দফায় আবেদন নামঞ্জুর করার পরও মার্কেটের দখল নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “আমরা তো আদালতের রায় মানি না। দুই একদিন পর এ ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদান করব।”
"আদালতে রায় পাওয়ার পর বর্তমান পরিচালনা কমিটি জানান, দোকানদারবৃন্দ, আমাদের মার্কেটের সার্বিক শৃঙ্খলার স্বার্থে বর্তমান বৈধ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
মার্কেটটি যারা বেআইনি ও অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে, আপনারা যদি তাদেরকে কোনো প্রকার দোকান ভাড়া প্রদান করেন, তবে তার যাবতীয় দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আপনাকেই বহন করতে হবে। কারণ, উক্ত দখলদারেরা সম্পূর্ণ অবৈধ।
পাশাপাশি, অননুমোদিত বা অবৈধভাবে দখলকৃত দোকানে অগ্রিম (এডভান্স) টাকা লেনদেনের বিষয়েও আপনাদের নিজ দায়িত্বে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। এই ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক লেনদেনের কোনো দায়ভার বর্তমান বৈধ পরিচালনা কমিটি গ্রহণ করবে না। মার্কেট ও আপনার নিজস্ব ব্যবসার নিরাপত্তা রক্ষার্থে সকলকে বৈধ ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, এর আগে বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেটটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই মার্কেটের কোনো দোকান মালিক কিংবা সমিতির সদস্য না হয়েও স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার প্রভাবে পেশিশক্তি ব্যবহার করেন। আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আসা খলিল মেম্বার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহায়তায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দোকানদারদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন