দৈনিক সোজা সাপটা

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে



জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর মাকসুদা বেগম হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের মাহমুদনগর এলাকাবাসী। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত মাকসুদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল ইসলাম জীবন শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়েই বক্তব্য রাখেন।  তিনি বলেন, আমার মা নিরীহ নিরপরাধ একজন মানুষ। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে খুনীরা। প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন হলো একজন মানুষকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করলো অথচ পুলিশ এখনো খুনের মূল হোতাকে এখনো গ্রেফতার করছে না। মামলার হুকুমের ও অন্যতম আসামী সামাউন ও অলিদকে পুলিশ রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছেনা। তাদের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন পুলিশ প্রশাসন। অনতিবিলম্বে সামাউন ও অলিদকে গ্রেফতার না করা হলে আরো কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচী পালণ করা হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বন্দর পুলিশ সিফাতের মতো ভয়ংকর একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে অথচ সামাউন আর অলিদের মতো ছিঁচকে সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করতে পারছে না এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাউন ওরফে সায়মনকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখুক। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সামাউন হাবিব এলাকায় ফিরে এসে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বীরদর্পে সন্ত্রাসী ও দখলদারি কার্যক্রম শুরু করেন। এলাকায় নিজস্ব বলয় ও একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ঠিকাদারিত্ব, ওয়েস্টেজ (বর্জ্য) মালের একক নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক নিজের কব্জায় নেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, নিহত মাকসুদা বেগমের ছেলে রাসেল ইসলাম ব্যবসা সূত্রে দীর্ঘদিন যাবত অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের কাছে ১৯ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বিএনপির নাম ভাঙানো প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে রাসেলকে নানা সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল আসামিরা। প্রসঙ্গত:  গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ রাত পৌণে ৯টায় মাহমুদনগর এলাকায় ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ২য় গেইট সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর রাসেল ইসলামকে পেয়ে গালিগালাজ শুরু করে সাদ্দাম। এর একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন (২৮), সামাউন হাবিব (৫০), তায়েম হাবিব (২৮), ওয়ালিদ মুন্সী (৩০), খোকন মিয়া ওরফে তুরগআলী (৬০), মো: সিয়াম (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাসেল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হুকুমের আসামি সামাউন হাবিবের নির্দেশে সাদ্দাম হোসেন রামদা দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অন্য আসামিরা চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। এ সময় রাসেলকে বাঁচাতে তার মা মাকসুদা বেগম এগিয়ে এলে আসামিরা রামদা দিয়ে তার মাথার পেছনে, ঘাড়ে ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার চাচা শফিকুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তাকেও ধারালো দা দিয়ে কোপানো হয়, এতে তার বাম হাত কেটে মারাত্মক জখম হয়।  পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মা মাকসুদা বেগম মারা যান। গুরুতর আহত রাসেল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং শফিকুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো: নাদিম মিয়া (৪৯) বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেন, সামাউন হাবিবসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর মাকসুদা বেগম হত্যা মামলার পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের মাহমুদনগর এলাকাবাসী। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত মাকসুদা বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল ইসলাম জীবন শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়েই বক্তব্য রাখেন।  তিনি বলেন, আমার মা নিরীহ নিরপরাধ একজন মানুষ। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে খুনীরা। প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন হলো একজন মানুষকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করলো অথচ পুলিশ এখনো খুনের মূল হোতাকে এখনো গ্রেফতার করছে না। মামলার হুকুমের ও অন্যতম আসামী সামাউন ও অলিদকে পুলিশ রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছেনা। তাদের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন পুলিশ প্রশাসন। অনতিবিলম্বে সামাউন ও অলিদকে গ্রেফতার না করা হলে আরো কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচী পালণ করা হবে। অন্যান্য বক্তারা বলেন, বন্দর পুলিশ সিফাতের মতো ভয়ংকর একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে অথচ সামাউন আর অলিদের মতো ছিঁচকে সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতার করতে পারছে না এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাউন ওরফে সায়মনকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখুক। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সামাউন হাবিব এলাকায় ফিরে এসে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বীরদর্পে সন্ত্রাসী ও দখলদারি কার্যক্রম শুরু করেন। এলাকায় নিজস্ব বলয় ও একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ঠিকাদারিত্ব, ওয়েস্টেজ (বর্জ্য) মালের একক নিয়ন্ত্রণ এবং ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী ডকইয়ার্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নিয়ন্ত্রণ জোরপূর্বক নিজের কব্জায় নেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, নিহত মাকসুদা বেগমের ছেলে রাসেল ইসলাম ব্যবসা সূত্রে দীর্ঘদিন যাবত অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের কাছে ১৯ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো বিএনপির নাম ভাঙানো প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে রাসেলকে নানা সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল আসামিরা। প্রসঙ্গত:  গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ রাত পৌণে ৯টায় মাহমুদনগর এলাকায় ইনসি সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ২য় গেইট সংলগ্ন পাকা রাস্তার ওপর রাসেল ইসলামকে পেয়ে গালিগালাজ শুরু করে সাদ্দাম। এর একপর্যায়ে সাদ্দাম হোসেন (২৮), সামাউন হাবিব (৫০), তায়েম হাবিব (২৮), ওয়ালিদ মুন্সী (৩০), খোকন মিয়া ওরফে তুরগআলী (৬০), মো: সিয়াম (২৩) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাসেল ইসলামের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হুকুমের আসামি সামাউন হাবিবের নির্দেশে সাদ্দাম হোসেন রামদা দিয়ে রাসেলকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিঠে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অন্য আসামিরা চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। এ সময় রাসেলকে বাঁচাতে তার মা মাকসুদা বেগম এগিয়ে এলে আসামিরা রামদা দিয়ে তার মাথার পেছনে, ঘাড়ে ও পিঠে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তার চাচা শফিকুল ইসলাম এগিয়ে আসলে তাকেও ধারালো দা দিয়ে কোপানো হয়, এতে তার বাম হাত কেটে মারাত্মক জখম হয়।  পরবর্তীতে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মা মাকসুদা বেগম মারা যান। গুরুতর আহত রাসেল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং শফিকুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো: নাদিম মিয়া (৪৯) বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেন, সামাউন হাবিবসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে
0:00 / 0:00
1x