ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

তিন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬

তিন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়ির দোকান ও ইসদাইর বাজার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে যায়। অনেক স্থানে পানি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের একটি বড় সময়ই কোথাও না কোথাও পানি জমে থাকে। নিচু রাস্তা, বিভিন্ন স্থানে ড্রেন ভেঙে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়ির দোকান ও ইসদাইর বাজারের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে পথচারীদের পাশাপাশি রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জলাবদ্ধতার পানি জমে থাকার কারণে রাস্তাঘাটের অবস্থাও দ্রুত খারাপ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় অনেক সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে এবং খানাখন্দ তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে চলাচলে ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, শুধু বৃষ্টির সময় নয়, অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও পানি দ্রুত নামতে চায় না। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় একই সমস্যা বারবার ফিরে আসে। ফলে স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু পানি সরানোর উদ্যোগ নয়, বরং রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়ির দোকান ও ইসদাইর বাজারসহ আশপাশের এলাকাগুলো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে। এতে ড্রেনেজ, সড়ক উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের মতো মৌলিক অবকাঠামোগত সমস্যারও স্থায়ী সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণ নিয়ে বর্তমানে গণশুনানি চলছে। এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়ির দোকান ও ইসদাইর বাজার এলাকার বিষয়টিও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের মতে, সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের নাগরিক সুবিধা, অবকাঠামোগত অবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। গণশুনানিতে এসব এলাকার জলাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এলে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, নতুন কোনো এলাকা সম্প্রসারণ বা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় যেমন প্রস্তাবের সুযোগ রয়েছে, তেমনি কোনো এলাকা ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তা বাদ দেওয়ার দাবিও উত্থাপনের সুযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্যের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশনের সীমানা সম্প্রসারণের চলমান গণশুনানিতে দক্ষিণ সস্তাপুর, বুড়ির দোকান ও ইসদাইর বাজার এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, জলাবদ্ধতা তাদের কাছে এখন মৌসুমি দুর্ভোগ নয়; এটি দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট। তাই এলাকাগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন, রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তাদের। গণশুনানির মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।

Link copied!