ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
এবিসি ও হেরিটেজ স্কুলে সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্যের অভিযোগ

দুই স্কুলে ‘ইভেন্ট চার্জ’ নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬

এবিসি ও হেরিটেজ স্কুলে সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্যের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের দুটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও হেরিটেজ স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক এ অভিযোগ তুলেছেন। তবে সন্তানদের শিক্ষাজীবনে কোনো ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নতুন করে পুনঃভর্তি ফি নেওয়ার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু পুনঃভর্তি ফি না নিয়ে ‘ইভেন্ট চার্জ’সহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের দাবি, এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘ইভেন্ট চার্জ’ হিসেবে ২০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, পুনঃভর্তি ফি নেওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার পর একই ধরনের অর্থ অন্য কোনো খাতে নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অধ্যয়নরত কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে তার কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি (Readmission Fee) আদায় করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন করে পুনঃভর্তি ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত বাৎসরিক সেশন চার্জ ও টিউশন ফি নেওয়ার বিধান রয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

তবে এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই পুনঃভর্তি ফি নিচ্ছে না। ‘ইভেন্ট চার্জ’ তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মের অংশ এবং এটি পুনঃভর্তি ফি নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। আপনি এইচআর এডমিনের সঙ্গে কথা বলুন।’

পরে স্কুলটির এইচআর অ্যাডমিন প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের স্কুলে কোনো পুনঃভর্তি ফি নেওয়া হয় না। স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ইভেন্ট চার্জ নেওয়া হচ্ছে। আমরা ভর্তির শুরুতে নয়, পরীক্ষা শেষে এই চার্জ নিয়ে থাকি।’

অভিভাবকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, ‘এবিসি স্কুল আমাদের আওতায় নেই। এটি সম্পূর্ণ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। এ বিষয়ে আমার বলার কোনো সুযোগ নেই।’

এদিকে হেরিটেজ স্কুলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাদের দাবি, সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন খাতের নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে হেরিটেজ স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিভাবকদের ভাষ্য, সন্তানদের শিক্ষাজীবন নিয়ে তারা এমনিতেই নানা ধরনের চাপের মধ্যে থাকেন। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চান না। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফি আদায়ের কাঠামো ও খাতগুলো যাচাই করে দেখে।

তাদের প্রশ্ন, ‘পুনঃভর্তি ফি’ নামে অর্থ না নিয়ে অন্য কোনো নাম বা খাতে একই ধরনের অর্থ নেওয়া হলে সেটি সরকারি নীতিমালার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিভাবকদের অভিযোগ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার মধ্যে তৈরি হওয়া এই পার্থক্য নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি নীতিমালায় কোন কোন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং ‘ইভেন্ট চার্জ’ সেই অনুমোদিত খাতের মধ্যে পড়ে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

Link copied!