নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে কোনো কোনো দল সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, আবার কোনো কোনো দল প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শিগগিরই মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আহ্বায়ক মো. শওকত আলী।
নাসিক নির্বাচনে এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে শুরুতে মো. শওকত আলীর নাম আলোচনায় আসে। তিনি বর্তমানে দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আহ্বায়ক। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।
পেশায় শিক্ষক শওকত আলীর নগরীর জামতলায় একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। শিক্ষকতার সুবাদে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় শওকত একসময় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। তিনি দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদেরও সদস্য। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অবস্থান ও সাংগঠনিক পরিচিতির কারণে প্রার্থিতার বিবেচনায় জুনায়েদ কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
জুনায়েদের পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায়। তবে বাল্যকাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্র (পাওয়ার হাউস) এলাকায় বসবাস করেছেন তিনি। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন জুনায়েদ।
স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন জুনায়েদ। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
এদিকে চার দফা দাবিতে দেশের মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি বলে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। চলতি মাসে নারায়ণগঞ্জেও দলটির সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
প্রার্থিতা নিয়ে জানতে চাইলে মো. শওকত আলী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখনো কারো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় পর্ষদ আরও রিভিউ করবে, তৃণমূলের সঙ্গে বসবে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। প্রার্থী হিসেবে দল থেকে জুনায়েদ ভাই এবং আমি আছি। দল যাকে ভালো মনে করবে তাকে প্রার্থিতা দেবে।”
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। জনগণের জন্য আগে-পরে কাজ করেছি। প্রার্থী নির্বাচিত হলে সে অনুযায়ী এগোব। নির্বাচনী প্রচারণা, ইশতেহার, নগর পরিকল্পনা করা, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করা। এ কাজগুলো আমি এমনিতেও করছি তবে নির্বাচিত হলে পরিকল্পিতভাবে করব।”
নাসিক নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থিতা নিয়ে জুনায়েদ ও শওকতের নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত জুনায়েদ নাকি স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা শওকত কাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয় এনসিপি।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই মধ্যে কোনো কোনো দল সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, আবার কোনো কোনো দল প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শিগগিরই মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আহ্বায়ক মো. শওকত আলী।
নাসিক নির্বাচনে এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে শুরুতে মো. শওকত আলীর নাম আলোচনায় আসে। তিনি বর্তমানে দলটির নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার আহ্বায়ক। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি।
পেশায় শিক্ষক শওকত আলীর নগরীর জামতলায় একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। শিক্ষকতার সুবাদে তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় শওকত একসময় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। তিনি দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদেরও সদস্য। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অবস্থান ও সাংগঠনিক পরিচিতির কারণে প্রার্থিতার বিবেচনায় জুনায়েদ কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।
জুনায়েদের পৈতৃক বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায়। তবে বাল্যকাল থেকেই পরিবারের সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্র (পাওয়ার হাউস) এলাকায় বসবাস করেছেন তিনি। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন জুনায়েদ।
স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন জুনায়েদ। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং এনসিপির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
এদিকে চার দফা দাবিতে দেশের মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি বলে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। চলতি মাসে নারায়ণগঞ্জেও দলটির সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নাসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
প্রার্থিতা নিয়ে জানতে চাইলে মো. শওকত আলী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এখনো কারো নাম চূড়ান্ত করা হয়নি। আলাপ-আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় পর্ষদ আরও রিভিউ করবে, তৃণমূলের সঙ্গে বসবে তারপর সিদ্ধান্ত নেবে। প্রার্থী হিসেবে দল থেকে জুনায়েদ ভাই এবং আমি আছি। দল যাকে ভালো মনে করবে তাকে প্রার্থিতা দেবে।”
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা। জনগণের জন্য আগে-পরে কাজ করেছি। প্রার্থী নির্বাচিত হলে সে অনুযায়ী এগোব। নির্বাচনী প্রচারণা, ইশতেহার, নগর পরিকল্পনা করা, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করা। এ কাজগুলো আমি এমনিতেও করছি তবে নির্বাচিত হলে পরিকল্পিতভাবে করব।”
নাসিক নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থিতা নিয়ে জুনায়েদ ও শওকতের নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত জুনায়েদ নাকি স্থানীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা শওকত কাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয় এনসিপি।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন