নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেত্রী রহিমা শরীফ মায়া ও আফসানা আফরোজ বিভার মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক এই পদটি নিজেদের অনুকূলে নিতে দুই নেত্রীই এখন বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই নেত্রীর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা অবশ্য ভিন্ন ধরনের। রহিমা শরীফ মায়া নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ সময়ে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিএনপির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন। ফলে আন্দোলন-সংগ্রামে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার বিষয়টি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অন্যদিকে আফসানা আফরোজ বিভা নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সদস্য। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্যানেল মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার আরেকটি রাজনৈতিক পরিচয় হলো, তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আবদুল মজিদ কমিশনারের ছোট ভাই বিএনপি নেতা হাসান আহম্মেদের স্ত্রী। নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনিও জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
দুই নেত্রীর অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ। রহিমা শরীফ মায়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু চেয়ারম্যান পদে আফসানা আফরোজ বিভার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। এ খবর জানার পর রহিমা শরীফ মায়া ও তার অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটির দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা একজন জেলা পর্যায়ের নেত্রীকে বিবেচনায় না নিয়ে মহানগরের দুই শীর্ষ নেতার অন্য একজনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না মায়ার অনুসারীরা। তাদের মতে, বিগত সরকারের আমলে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
এমনকি রহিমা শরীফ মায়াকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া না হলে তার অনুসারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদটি এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নারী রাজনীতিতে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয়—দুই ভিন্ন অবস্থান থেকে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন দুই নেত্রী।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কার সুপারিশ প্রাধান্য পায় এবং জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পান। তবে এই নিয়োগকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন কোনো বিরোধ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেত্রী রহিমা শরীফ মায়া ও আফসানা আফরোজ বিভার মধ্যে শুরু হয়েছে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক এই পদটি নিজেদের অনুকূলে নিতে দুই নেত্রীই এখন বিভিন্ন পর্যায়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দুই নেত্রীর রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা অবশ্য ভিন্ন ধরনের। রহিমা শরীফ মায়া নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। এ সময়ে হামলা-মামলা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিএনপির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে তার অনুসারীরা দাবি করেন। ফলে আন্দোলন-সংগ্রামে তার দীর্ঘদিনের ভূমিকার বিষয়টি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
অন্যদিকে আফসানা আফরোজ বিভা নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সদস্য। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্যানেল মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার আরেকটি রাজনৈতিক পরিচয় হলো, তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা আবদুল মজিদ কমিশনারের ছোট ভাই বিএনপি নেতা হাসান আহম্মেদের স্ত্রী। নগর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনিও জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
দুই নেত্রীর অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ। রহিমা শরীফ মায়ার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু চেয়ারম্যান পদে আফসানা আফরোজ বিভার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। এ খবর জানার পর রহিমা শরীফ মায়া ও তার অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটির দাবি, দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা একজন জেলা পর্যায়ের নেত্রীকে বিবেচনায় না নিয়ে মহানগরের দুই শীর্ষ নেতার অন্য একজনের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ভালোভাবে দেখছেন না মায়ার অনুসারীরা। তাদের মতে, বিগত সরকারের আমলে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন।
এমনকি রহিমা শরীফ মায়াকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া না হলে তার অনুসারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান পদটি এখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নারী রাজনীতিতে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয়—দুই ভিন্ন অবস্থান থেকে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন দুই নেত্রী।
এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কার সুপারিশ প্রাধান্য পায় এবং জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কে পান। তবে এই নিয়োগকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন কোনো বিরোধ তৈরি হয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন