দৈনিক সোজা সাপটা

চুমুকাণ্ডে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল



চুমুকাণ্ডে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
চুমুকাণ্ডে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

‘কারওই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, তা যেন বিন্দুমাত্র কোনো আচরণের কারণে নষ্ট না হয়ে যায়।’

টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় আইনগত বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) টঙ্গীর ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি।

পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন। তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনরা। 

একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ওই শিক্ষক।

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার মনে হয়, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে, যে দেশে এত বেশি আইন আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই, যা প্রত্যেকটা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে না। এটা একটা আশ্চর্য জিনিস।’

মাদ্রাসার ঘটনা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান আছে। আইনি প্রতিকার আছে। আমার একটাই মাত্র আহ্বান থাকবে, যদি কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকেন, সেই অপরাধের জন্য তিনি শাস্তি ভোগ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে তিনি নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। কারওই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, তা যেন কোনো কারণে বিন্দুমাত্র কোনো আচরণের কারণে নষ্ট না হয়ে যায়। আমাদের শিশু-কিশোরেরা যেন কোনো কারণে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে অনিরাপদ মনে না করে, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের মূল ভূমিকা লোকো প্যারেন্টিস। অর্থাৎ, পিতা-মাতার যে ভূমিকা, শিক্ষকরা সেই ভূমিকা পালন করে থাকেন। একটা বা দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়েও সমস্ত শিক্ষকসমাজকে লক্ষ্যবস্তু করাটা উচিত হবে না। আবার পিতা-মাতার যে আবেগের জায়গা, তার সন্তানের কোনো রকম অনিষ্ট দেখলে স্বাভাবিক যে আবেগ, সেই আবেগটাকেও কেউ কেউ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আপনার (সাংবাদিকদের) কথা মোতাবেক। কিন্তু আমার নিজের অভিমত হচ্ছে, আমি যেহেতু আইনের মানুষ, আইনের কাঠামোর মধ্যে পুরো বিষয়টিরই একটি আইনি সমাধান করা সম্ভব। আমি জানতে পেরেছি, সংশ্লিষ্ট ঘটনায়, গাজীপুরের যে ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু আদালতের কিংবা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আমার মনে হয়, সেখানেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।’


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


চুমুকাণ্ডে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‘কারওই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, তা যেন বিন্দুমাত্র কোনো আচরণের কারণে নষ্ট না হয়ে যায়।’

টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ‘ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় আইনগত বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) টঙ্গীর ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার।

ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি।

পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন কয়েকজন। তখন ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘...আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু...।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনরা। 

একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ওই শিক্ষক।

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগ এনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার মনে হয়, পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে, যে দেশে এত বেশি আইন আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই, যা প্রত্যেকটা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে না। এটা একটা আশ্চর্য জিনিস।’

মাদ্রাসার ঘটনা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এর জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি বিধান আছে। আইনি প্রতিকার আছে। আমার একটাই মাত্র আহ্বান থাকবে, যদি কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকেন, সেই অপরাধের জন্য তিনি শাস্তি ভোগ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে তিনি নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। কারওই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, তা যেন কোনো কারণে বিন্দুমাত্র কোনো আচরণের কারণে নষ্ট না হয়ে যায়। আমাদের শিশু-কিশোরেরা যেন কোনো কারণে নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে অনিরাপদ মনে না করে, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের মূল ভূমিকা লোকো প্যারেন্টিস। অর্থাৎ, পিতা-মাতার যে ভূমিকা, শিক্ষকরা সেই ভূমিকা পালন করে থাকেন। একটা বা দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়েও সমস্ত শিক্ষকসমাজকে লক্ষ্যবস্তু করাটা উচিত হবে না। আবার পিতা-মাতার যে আবেগের জায়গা, তার সন্তানের কোনো রকম অনিষ্ট দেখলে স্বাভাবিক যে আবেগ, সেই আবেগটাকেও কেউ কেউ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আপনার (সাংবাদিকদের) কথা মোতাবেক। কিন্তু আমার নিজের অভিমত হচ্ছে, আমি যেহেতু আইনের মানুষ, আইনের কাঠামোর মধ্যে পুরো বিষয়টিরই একটি আইনি সমাধান করা সম্ভব। আমি জানতে পেরেছি, সংশ্লিষ্ট ঘটনায়, গাজীপুরের যে ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। যেহেতু আদালতের কিংবা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আমার মনে হয়, সেখানেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।’



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
চুমুকাণ্ডে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
0:00 / 0:00
1x