সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শহীদ রিয়া গোপ স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ভবনটির নির্মাণকাজে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাস্তার জায়গা ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুতল ভবন নির্মাণের সময় পথচারী ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সেফটি নেটসহ অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভবন মালিক সালাউদ্দিনকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেফটি নেট স্থাপন করে নিরাপদভাবে নির্মাণকাজ পরিচালনার আশ্বাস দিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রতিনিয়ত এ পথ দিয়ে চলাচলরত পথচারীরা আতঙ্ক ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ভবনের গেটসংলগ্ন রাস্তার একটি অংশে মাটি ভরাট করে নির্মাণসামগ্রী রাখা ও নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ওই সড়কে পথচারী ও ছোট যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে ভবন মালিক সালাউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ওই জায়গাটি নিজের কেনা জমি বলে দাবি করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ দাবির বিপরীতে এলাকাবাসীর বক্তব্য, ফতুল্লা স্টেডিয়ামের প্রাচীর ঘেঁষে লিংক রোড থেকে রামারবাগ পর্যন্ত চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জায়গাটি মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কম্পোজিটের পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর নির্মিত একটি চলাচলের পথ। স্থানীয়দের দাবি, স্টেডিয়ামের সীমানা থেকে প্রায় আট ফুট জায়গা রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ছোট যানবাহন ও বিপুলসংখ্যক পথচারী চলাচল করে আসছেন।
ফলে সংশ্লিষ্ট জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, নাকি সরকারি/জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার অংশ- এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি মৌখিক দাবি বা পাল্টা দাবির ভিত্তিতে নির্ধারণ না করে সরকারি জরিপ, খতিয়ান, দাগ, নকশা এবং সরেজমিনে সীমানা পরিমাপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা ও রাস্তার সীমানা নির্ধারণ করা হোক।
একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদন (ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ চবৎসরঃ), ভবনের উচ্চতা, জমির সীমানা এবং নির্মাণকাজে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া নির্মাণকাজ চলতে থাকলে পথচারী ও আশপাশের মানুষের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভবন মালিক সালাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং স্থানীয়রা সংবাদকর্মীদের কাছে মিথ্যে ও বানোয়াট অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ১৪ সেপ্টেম্বর(সোমবার) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ভবন নির্মাণকাজ চলাকালীন কোনো ধরনের সেফটি ব্যবহারের প্রমান পাওয়া যায়নি।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন- সংশ্লিষ্ট জায়গাটি আসলে কার মালিকানাধীন? ভবনটি অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্মাণ করা হচ্ছে কি না? এবং নির্মাণস্থলে জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না?
এলাকাবাসীর দাবি, এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক এবং অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার মতামত লিখুন :