আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান সংকট এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগী সক্ষমতা নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর পরিচালনা পর্ষদের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, সহ-সভাপতি মোঃ শামসুজ্জামান (CIP), মোঃ মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আশিকুর রহমান ও ফকির কামরুজ্জামান নাহিদসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষাতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাম্প্রতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সক্ষমতার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তা রাষ্ট্রপতির নিকট গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
এ সময় তিনি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে শিল্প মালিকদের সোলারসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন, এবং সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) কর্তৃক উপস্থাপিত পত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন, বানিজ্য মন্ত্রনালয় ইতোমধ্যেই সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জানান, তার দপ্তর কর্তৃক প্রেরিত পত্রটি শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিকেএমইএ-কেও উক্ত বিষয়ে একটি পত্র প্রদানের পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে সচল রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সব পক্ষ সমান সুবিধা পায়। বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে অর্থ, শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। এসময় তিনি দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের অবদান রাষ্ট্রপতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের ধন্যবাদ জানান।

আপনার মতামত লিখুন :