ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

‘হাসিনা কার্ডে’ ভারতকে বার্তা

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬

‘হাসিনা কার্ডে’ ভারতকে বার্তা

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ভারতকে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌম সমতার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ, পারস্পরিক মর্যাদা এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতেই এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
শেখ হাসিনাকে ভারতে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি যা বলছেন, ভারত তা সমর্থন করে না—এমন বক্তব্য ভারতীয় মুখপাত্রের কাছ থেকে এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে তাকে বারবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে দুই অবস্থানের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা—দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেউ বিদেশে অবস্থান করে রাজনীতি করেছেন—এমন উদাহরণ দেখিয়ে শেখ হাসিনার অবস্থানকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। তার দাবি, বর্তমান নেতৃত্ব গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে নির্বাসিত হয়েছিল, আর শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের পার্থক্য সেখানেই।
ভারতে শেখ হাসিনার আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। অন্যদিকে অতীতে তাকে ভারতে নির্বাসনে যেতে হয়নি; বরং তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে নির্যাতন ও গোপন আটকের পর সীমান্তের ওপারে ফেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আন্দোলনের সময় এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের নিহত হওয়ার কথা উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগও করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদের প্রশ্ন, এমন অভিযোগের পর শেখ হাসিনাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে রাজনৈতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না।
আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারের উদ্যোগের কথা সরকার বলছে। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দল হিসেবে স্থায়ীভাবে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ বা স্থগিত করার বিষয়সহ সম্পদ বাজেয়াপ্তের মতো বিষয়ও সংশ্লিষ্ট আইনে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান। এরই মধ্যে কয়েকটি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। অন্য মামলাগুলোতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার এগিয়ে নেওয়া হবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আরও মামলা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এত কিছুর পরও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষদের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপতৎপরতার অভিযোগও তোলেন।

Link copied!