ঢাকা রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী কে হবেন তা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, দেশের প্রশাসনিক অবস্থা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবশেষে আলোচনা হয়েছে, যা আপনারা সবচেয়ে বেশি শুনতে চান রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পর্কে।

আমাদের দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী নির্বাচন এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও সব দায়িত্ব আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।’ পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একটি সাংবিধানিক এখতিয়ার।

কমিশনের সাংবিধানিক এখতিয়ার হিসেবে দুটি বিষয় আছে— একটি সংসদ নির্বাচন, আরেকটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। আইন অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে জানিয়েছে যে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত আছে। তারা যে কোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে। তফসিল ঘোষণা করলে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারপারসনের ওপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এসময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনার কথা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি, জমা ও যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের পরে যদি একক প্রার্থী হন, তবে সেক্ষেত্রে আর ভোটাভুটির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। স্পিকারের সঙ্গে আলাপ করে নির্বাচন কমিশনই সেই দিনটি ঠিক করবে।’

এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়েও কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে দলের মহাসচিব ইতোমধ্যে কথা বলেছেন। তবে আমরা এ বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের প্রথম দিকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সেই হিসাবে দলের প্রস্তুতিও চলছে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রার্থী চূড়ান্ত করার সর্বময় ক্ষমতা দলীয় প্রধানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

Link copied!