দৈনিক সোজা সাপটা

শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে : রাজিব



শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল  পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে : রাজিব
শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে : রাজিব

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে এ বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও সরকার—এই তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বৃদ্ধি বোর্ড গঠন করেছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের মনমতো না হলে তারা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করতে পারবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসার আগেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
‎‎মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‎‎মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ইতিমধ্যে দেখা গেছে, শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অনেক শ্রমিকই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী নন। একটি কুচক্রী মহল দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
‎‎তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিক। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গার্মেন্টস শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে। শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল বুঝিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকায়।
‎‎শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজিব বলেন, আপনাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া কিংবা ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ও দেশের সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
‎‎তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্থানের সমস্যাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য এলাকায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুর ও জনসাধারণের সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার দাবি, শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে কিছু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের লোকজন এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ কোনো একক দলের নয়; এটি সবার। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশের সম্পদ ধ্বংস করা কোনো গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।
‎‎নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ যেন প্রকৃত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তার দায় সরকারের ওপর চাপাতে না পারে, সে জন্য তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা দেশের সম্পদ এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
‎‎তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। এ সময় পাশে উপস্থিত মডেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২৬ বছর ধরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। কিন্তু অল্প কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত বা জিম্মি না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জে কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ নিতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে । 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে : রাজিব

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে এ বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ ও সরকার—এই তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বৃদ্ধি বোর্ড গঠন করেছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের মনমতো না হলে তারা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আন্দোলন করতে পারবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসার আগেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।
‎‎মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে দেশব্যাপী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
‎‎মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ইতিমধ্যে দেখা গেছে, শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। প্রকৃত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অনেক শ্রমিকই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী নন। একটি কুচক্রী মহল দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
‎‎তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিকবান্ধব এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিক। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গার্মেন্টস শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠী তৎপর রয়েছে। শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল বুঝিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হবে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকায়।
‎‎শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজিব বলেন, আপনাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, সেই প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া কিংবা ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আলোচনার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ও দেশের সম্পদ ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
‎‎তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্থানের সমস্যাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য এলাকায় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। গাড়ি ভাঙচুর ও জনসাধারণের সম্পদ বিনষ্টের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার দাবি, শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে কিছু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের লোকজন এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তিনি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ কোনো একক দলের নয়; এটি সবার। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশের সম্পদ ধ্বংস করা কোনো গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।
‎‎নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শ্রমিকের ছদ্মবেশে কেউ যেন প্রকৃত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে তার দায় সরকারের ওপর চাপাতে না পারে, সে জন্য তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকরা দেশের সম্পদ এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
‎‎তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। এ সময় পাশে উপস্থিত মডেল গ্রুপের মাসুদুজ্জামানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২৬ বছর ধরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রমিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। কিন্তু অল্প কিছু মানুষের ষড়যন্ত্রের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক যেন ক্ষতিগ্রস্ত বা জিম্মি না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নারায়ণগঞ্জে কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ নিতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে । 


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে : রাজিব
0:00 / 0:00
1x