দৈনিক সোজা সাপটা

দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সাথে জিতেছিলেন শামীম ওসমান!



দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সাথে জিতেছিলেন শামীম ওসমান!
দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সাথে জিতেছিলেন শামীম ওসমান!

সোজাসাপটা রিপোর্ট

‘খেলা হবে’ স্লোগানের জনক শামীম ওসমান কে অনেকে বলেন ‘ খেলার আগেই দেশ ছেড়েছেন’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য রয়েছে অনেক। রাজনীতিকরাও সমাবেশে তাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন। তাদের এমন মন্তব্যে পরিস্কার হয় প্রভাবশালী এ রাজনীতিক খেলা হবে বললেও বাস্তবে খেলেনি।

এ কথা খানিকটা মিথ্যা। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তিনি হয়তো প্রকাশ্যে খেলেছেন কম। খেললেও হেরেছেন তবে অনেক খেলায় তিনি জিতেছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জের দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে এক ভয়ানক খেলায় জিতেছিলেন।

প্রবীণ এক সাংবাদিক জানান, ‘৯০ এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বিএনপির ৫ বছর ক্ষমতাকালে শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের ক্ষমতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সে সময়ে দেশ বরণ্য এক জাতীয় খেলোয়াড়কে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

এ জন্য এক ঘটনা সাজিয়েছে এ খেলুড়ে। শহরের চাষাঢ়ায় খাজা মার্কেটে একটি ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ার দোকান ভাংচুর নাটক করেছিলো শামীম ওসমানের নির্দেশে তার কয়েকজন অনুগত। দোকানে থাকা একটি সাদা-কালো টেলিভিশন ভাঙ্গা হয়। এরপর এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। তখনকার এক দারোগাও তার হয়ে কাজ করে বলে জানা গেছে। সেই মামলায় আরও অনেকের সঙ্গে আসামী করা হয় জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় দেওভোগের বাসিন্দা খাজা রহমত উল্লাহকে। যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ সভাপতি হয়েছিলেন। এ মামলায় বেশ কয়েক মাস জেল খেটেছিলেন দেশ বরেণ্য এ হকি তারকা। 

ফুটবলের সোনালী দিনে দেশের ‘ম্যারাডোনা’ খ্যাত সম্রাট হোসেন এমিলিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করেছিলেন শামীম ওসমান। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটেছিলো নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে। ফুটবলার এমিলি তখন অভিযোগ করেছিলেন, সকাল আটটার দিকে শহরের খানপুরের বাড়ি থেকে দ্বিগুবাবুর বাজারের উদ্দেশে বের হন তিনি। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে প্রাইভেট কার পার্ক করে ক্লাবের সভাপতি মো. সোলায়মান কখন ক্লাবে আসবেন, তা নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে জানতে  চান। এ সময় শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসিফ হাসান মাহমুদ ওরফে মানু ও অপর একজন অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে ক্লাবের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে পিস্তল হাতে শামীম ওসমান আসেন। শুরু করেন অকথ্য ভাষায় গালাগালি। একপর্যায়ে তাকে লাথি মারেন ও মুখে পিস্তলের নল ঢুকিয়ে দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার বর্ণনা দেয়ার সময়ে হু হু করে কেঁদেছিলেন সম্রাট হোসেন এমিলি। বলেছিলেন,  ‘আল্লাহর দরবারে এর বিচার দিয়ে রাখলাম। প্রশাসনের কাছে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কেউ সুবিচার পায়নি।’

ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পরে খানপুর হাসপাতাল জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ তাকে আটক করে। 

সে সময়ে নারায়ণগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর ছিল, এমিলি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শহরে কয়েকটি রিকশা ভাঙচুর করেছেন। কিন্তু তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের ডার্টি পলিটিক্সে দুইজন জাতীয় খেলোয়াড়কে শামীম ওসমান হারিয়েছেন ধরে হয়তো তার অনুগতরা (যারা তার সব কাজে ‘হ্যা’ করেন) পুলকিত হতে পারেন। তবে বাস্তবে শামীম ওসমান এ খেলোয়াড়দের সাথে হেরেছেন। কারণ, মানুষ এখনো তাদেরই শ্রদ্ধা করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ‘খেলা হবে’ বলে শহর প্রকম্পিত করতেন শামীম ওসমান। এসপি হারুন থাকতে যখন বেশ বেকায়দায় পড়েন তখন ঢাক ঢোল পিটিয়ে শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় সমাবেশ করেন। তবে শেষতক সমাবেশে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে সাহস পাননি। তখনকার বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতের অনেক নেতাকে উদ্দেশ্য করে ‘খেলা হবে’ বললেও চূড়ান্ত খেলায় তারই পরাজয় হয়েছে। জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে অস্ত্র সহ স্বজন, অনুগতদের নিয়ে মাঠে নামলেও শেষতক পিছু হটেন। 

এখন আর খেলা হবে বলেন না শামীম ওসমান। কিছু দিন আগে একটি ভিডিওতে বলেছেন ‘ এখন আর খেলা নয়-যুদ্ধ হবে’। সে যুদ্ধ কবে, কোথায়-কার সাথে হবে তা পরিস্কার করেননি এক সময়কার এ শহরের দণ্ডমুন্ডের হর্তা কর্তা শামীম ওসমান।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সাথে জিতেছিলেন শামীম ওসমান!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সোজাসাপটা রিপোর্ট

‘খেলা হবে’ স্লোগানের জনক শামীম ওসমান কে অনেকে বলেন ‘ খেলার আগেই দেশ ছেড়েছেন’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য রয়েছে অনেক। রাজনীতিকরাও সমাবেশে তাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন। তাদের এমন মন্তব্যে পরিস্কার হয় প্রভাবশালী এ রাজনীতিক খেলা হবে বললেও বাস্তবে খেলেনি।

এ কথা খানিকটা মিথ্যা। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে তিনি হয়তো প্রকাশ্যে খেলেছেন কম। খেললেও হেরেছেন তবে অনেক খেলায় তিনি জিতেছেন। এমনকি নারায়ণগঞ্জের দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে এক ভয়ানক খেলায় জিতেছিলেন।

প্রবীণ এক সাংবাদিক জানান, ‘৯০ এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। বিএনপির ৫ বছর ক্ষমতাকালে শামীম ওসমান ও তার সহযোগীদের ক্ষমতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সে সময়ে দেশ বরণ্য এক জাতীয় খেলোয়াড়কে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন তিনি।

এ জন্য এক ঘটনা সাজিয়েছে এ খেলুড়ে। শহরের চাষাঢ়ায় খাজা মার্কেটে একটি ভিডিও ক্যাসেট ভাড়ার দোকান ভাংচুর নাটক করেছিলো শামীম ওসমানের নির্দেশে তার কয়েকজন অনুগত। দোকানে থাকা একটি সাদা-কালো টেলিভিশন ভাঙ্গা হয়। এরপর এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। তখনকার এক দারোগাও তার হয়ে কাজ করে বলে জানা গেছে। সেই মামলায় আরও অনেকের সঙ্গে আসামী করা হয় জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়াড় দেওভোগের বাসিন্দা খাজা রহমত উল্লাহকে। যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সহ সভাপতি হয়েছিলেন। এ মামলায় বেশ কয়েক মাস জেল খেটেছিলেন দেশ বরেণ্য এ হকি তারকা। 

ফুটবলের সোনালী দিনে দেশের ‘ম্যারাডোনা’ খ্যাত সম্রাট হোসেন এমিলিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করেছিলেন শামীম ওসমান। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটেছিলো নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে। ফুটবলার এমিলি তখন অভিযোগ করেছিলেন, সকাল আটটার দিকে শহরের খানপুরের বাড়ি থেকে দ্বিগুবাবুর বাজারের উদ্দেশে বের হন তিনি। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে প্রাইভেট কার পার্ক করে ক্লাবের সভাপতি মো. সোলায়মান কখন ক্লাবে আসবেন, তা নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে জানতে  চান। এ সময় শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসিফ হাসান মাহমুদ ওরফে মানু ও অপর একজন অস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে ক্লাবের অভ্যর্থনা কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে পিস্তল হাতে শামীম ওসমান আসেন। শুরু করেন অকথ্য ভাষায় গালাগালি। একপর্যায়ে তাকে লাথি মারেন ও মুখে পিস্তলের নল ঢুকিয়ে দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার বর্ণনা দেয়ার সময়ে হু হু করে কেঁদেছিলেন সম্রাট হোসেন এমিলি। বলেছিলেন,  ‘আল্লাহর দরবারে এর বিচার দিয়ে রাখলাম। প্রশাসনের কাছে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কেউ সুবিচার পায়নি।’

ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। পরে খানপুর হাসপাতাল জামে মসজিদ থেকে জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ তাকে আটক করে। 

সে সময়ে নারায়ণগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর ছিল, এমিলি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শহরে কয়েকটি রিকশা ভাঙচুর করেছেন। কিন্তু তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

রাজনীতি সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের ডার্টি পলিটিক্সে দুইজন জাতীয় খেলোয়াড়কে শামীম ওসমান হারিয়েছেন ধরে হয়তো তার অনুগতরা (যারা তার সব কাজে ‘হ্যা’ করেন) পুলকিত হতে পারেন। তবে বাস্তবে শামীম ওসমান এ খেলোয়াড়দের সাথে হেরেছেন। কারণ, মানুষ এখনো তাদেরই শ্রদ্ধা করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ‘খেলা হবে’ বলে শহর প্রকম্পিত করতেন শামীম ওসমান। এসপি হারুন থাকতে যখন বেশ বেকায়দায় পড়েন তখন ঢাক ঢোল পিটিয়ে শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় সমাবেশ করেন। তবে শেষতক সমাবেশে এসপি হারুনের বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে সাহস পাননি। তখনকার বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতের অনেক নেতাকে উদ্দেশ্য করে ‘খেলা হবে’ বললেও চূড়ান্ত খেলায় তারই পরাজয় হয়েছে। জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে অস্ত্র সহ স্বজন, অনুগতদের নিয়ে মাঠে নামলেও শেষতক পিছু হটেন। 

এখন আর খেলা হবে বলেন না শামীম ওসমান। কিছু দিন আগে একটি ভিডিওতে বলেছেন ‘ এখন আর খেলা নয়-যুদ্ধ হবে’। সে যুদ্ধ কবে, কোথায়-কার সাথে হবে তা পরিস্কার করেননি এক সময়কার এ শহরের দণ্ডমুন্ডের হর্তা কর্তা শামীম ওসমান।



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দুই জাতীয় খেলোয়াড়ের সাথে জিতেছিলেন শামীম ওসমান!
0:00 / 0:00
1x