রাজধানীর সঙ্গে দ্বীপ জেলা ভোলার যাতায়াত আরও সহজ করতে কাঁচপুর-ইলিশা নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। নতুন এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার।
মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা-ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ভোলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় বর্তমানে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে সড়ক ও সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে। ওই সময় পর্যন্ত মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা বাড়াতে ফেরি সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন রুটে গত ২৭ আগস্ট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরীক্ষামূলক চলাচলের পর এ পথে মানুষের আগ্রহের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি যাত্রীদেরও এ রুট ব্যবহারে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামের দুটি ফেরি দিয়ে কাঁচপুর-ইলিশা রুটে সেবা দেওয়া হচ্ছে। একবার নদীপথ পাড়ি দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগছে।
যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লে ফেরির সংখ্যা আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ফেরির ভাড়া সাধারণ মানুষের জন্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং ঘাট এলাকায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি চালুর ফলে ভোলা থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহন পরিবহনের সুযোগ বাড়ায় জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
শুধু সড়ক যোগাযোগের বিকল্প হিসেবে নয়, ভোলার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতেও এই নৌরুট ভূমিকা রাখতে পারে। সরাসরি স্থল যোগাযোগ স্থাপনের আগ পর্যন্ত ফেরি সার্ভিসকে কার্যকর রাখার ওপর তাই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
এদিকে ঢাকার চক্রাকার নৌপথ ও ওয়াটার বাস ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তার মতে, নির্দিষ্ট সময়সূচি, উন্নত যাত্রীসেবা এবং সড়ক ও নৌপথের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে এসব নৌযানভিত্তিক গণপরিবহন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি নৌপরিবহন ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় ও লোকসানও কমানো সম্ভব হবে।
বর্ষা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার নিয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা জানান শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেতুর আশপাশে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানান তিনি। নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।
ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী, পরিচালক (প্রশাসন) মো. রবিউল আলম, পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, পরিচালক (কারিগরি) ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ হাসেমুর রহমান চৌধুরী এবং পরিচালক (অর্থ) শেখ মো. নাসিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাঁচপুর-ইলিশা ফেরি সার্ভিসকে ভোলা ও মূল ভূখণ্ডের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অন্তর্বর্তী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এই নৌরুটের বর্তমান অভিজ্ঞতাও বৃহত্তর যোগাযোগ পরিকল্পনায় কাজে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন :