ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুলিশ প্রশাসন নিরব

বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে

স্টাফ রিপোর্টার স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬

বন্দরে পরোয়ানাভুক্ত আ’লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকায় বহাল তবিয়তে

​নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধ ও ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলাম ও তার ছেলে বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নথি ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকির একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
​সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি আরিফের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর বন্দর থানায় প্রথম দফায় একটি মামলা দায়ের হয় (এফআইআর নং-৫৪/১৭৮)। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় তার বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, মারধর, সরাসরি হত্যাচেষ্টা এবং চুরির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
​এর আগে ২০১০ সালের ১০ মার্চ বন্দর থানাতেই তার বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা (এফআইআর নং-১৩) রুজু হয়েছিল। দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৬, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারার ওই মামলায় বেআইনি জনতা গঠন করে পথরোধ, অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও অঙ্গহানির মতো নৃশংস অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে।

​কেবল স্থানীয় অপরাধ কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয় এই পরিবার। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় (এফআইআর নং-৪৩, জিআর নং-১০২৩) আরিফকে আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১১৪, ১৪৭, ১৪৮, ১০৯, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
​অনুসন্ধান বলছে, কেবল এই তিনটি মামলাই নয়—আমীরুল ইসলাম ও আরিফ পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় জাল-জালিয়াতি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে আছে।

​স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে তারা এলাকায় অপরাধের রাজত্ব গড়ে তোলেন। বর্তমানেও তারা মানুষের জমি ভূয়া দলিল করে হয়রানি করছে।

​তবে গুরুতর এসব মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত দুই আওয়ামী লীগ নেতা পিতা-পুত্র এলাকাতেই বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না বলে যে দাবি করছে, তাতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জুলাই যোদ্ধারা। 
অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
​এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আরিফ ও তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা আমীরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
​
বন্দর থানা অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিন জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেফতারসহ আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

Link copied!