ঢাকা শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেটে উদ্বৃত্ত কেন?

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬

ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেটে উদ্বৃত্ত কেন?

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ১১২ টাকার বাজেটকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজেটের আকার বড় হলেও সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঘোষিত ১৩০ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৭১০ টাকা উদ্বৃত্ত নিয়ে। সাধারণভাবে বাজেটে উদ্বৃত্ত থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও এত বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত দেখানোর কারণ কী তা নিয়েই নানা মহলে আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে নাসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বাজেট ঘোষণা করেন।
ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে সম্ভাব্য মোট আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ১১২ টাকা। অন্যদিকে সম্ভাব্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৪০২ টাকা। ফলে হিসাব অনুযায়ী ১৩০ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৭১০ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট গত বছরের তুলনায় ২৮৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৪ টাকা বেশি, যা নাসিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখানো অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় চলমান বা বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের অর্থ, পূর্ববর্তী বছরের অব্যবহৃত তহবিল কিংবা নির্দিষ্ট খাতে সংরক্ষিত অর্থ হিসাবেই উদ্বৃত্ত দেখানো হয়। অর্থাৎ এটি সরাসরি নগদ অর্থ হাতে থেকে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং একটি হিসাবভিত্তিক আর্থিক অবস্থান।
তবুও প্রশ্ন উঠছে, যখন নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, ড্রেনেজ সংকট, বিশুদ্ধ পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজটের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তখন অতিরিক্ত ১৩০ কোটি টাকার সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত রেখে কেন আরও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হলো না।
এবারের বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণ, সুপেয় পানির সরবরাহ সম্প্রসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, যানজট নিরসন এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা।
পরিকল্পনার আওতায় ২০ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপলাইন, ২৮০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ১৪টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া (ডিএমএ), ৩৫ হাজার স্মার্ট পানির সংযোগ, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ বা পুনর্র্নিমাণ এবং ৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে পার্ক, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ৫৪টি পানির পাম্প স্থাপন, জালকুড়ির স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড কার্যক্রম, কদমরসুলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, হকার পুনর্বাসন, বিকল্প সড়ক নির্মাণ, ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ৩০টি ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ নির্মাণের বিষয়ও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন কোনো কর আরোপ না করে ছাদবাগান করা হোল্ডিং মালিকদের জন্য বিদ্যমান ২৭ শতাংশ কর ছাড়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ কর ছাড়ের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বাজেট ঘোষণা শেষে প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, পরিবেশবান্ধব, পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সময়মতো হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিলসহ সব ধরনের ফি পরিশোধের আহ্বান জানান।
তবে বাজেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন মহলের অভিমত, ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেটের পাশাপাশি দেখানো ১৩০ কোটির বেশি উদ্বৃত্তের যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করা হলে নগরবাসীর মধ্যে বাজেট নিয়ে বিদ্যমান প্রশ্ন ও কৌতূহল অনেকটাই দূর হবে।

Link copied!