ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে সংসদে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই দলটি একাধিক বিতর্ক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা, জনপ্রতিনিধিদের আচরণ এবং জোট রাজনীতির পরিবর্তিত সমীকরণ—এই তিনটি বিষয় বর্তমানে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন তরুণীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ঘটনা দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দলীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে বলা হয়, সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজন, পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত সহকারী বা তাদের ঘনিষ্ঠদের পক্ষে কোনো ধরনের সুপারিশ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না।
অন্যদিকে, জোট রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণের মুখে পড়েছে দলটি। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে নতুন একটি কওমিভিত্তিক রাজনৈতিক জোট গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট থেকে খেলাফত মজলিস সরে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, আরও কয়েকটি দলের অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, তাদের নেতৃত্বাধীন জোটকে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু দলকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফলে সংসদের ভেতরের পাশাপাশি সংসদের বাইরের রাজনৈতিক অবস্থানও এখন নতুন করে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে দলটিকে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ছোটখাটো ঘটনাও বড় বিতর্কে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে দল প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :