দৈনিক সোজা সাপটা

আটকের প্রায় ৮ ঘন্টা পরে আব্দুল্লাহ আল এহসান মুক্ত

শহরের বি.বি. রোডের গ্রান্ডহল ভবনের অর্ধেক মালিক আব্দুল্লাহ আল এহসানকে রাত পৌনে ৩টায় ছেড়ে দিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নীচ থেকে তুলে নিয়ে যায়। এর আগে গ্রেফতারকৃত তারই ছোট ভাই সানজিদ হাসনাতকে সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেফতার করে।   আব্দুল্লাহ আল এহসানকে গত সরকারের সময় তারই ছোট ভাই সানজিদ এবং সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের সহায়তায় গডফাদার শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমানের সহযোগিতায় এহসান হাসনাতকে চাপের মধ্যে রেখে  গ্রান্ডহল ভবনের মালিকানা থাকলেও বঞ্চিত করা হয়। অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমানের সহযোগিতায় উচ্ছাস নামের ভাড়াটিয়া পুরো ভবনটি ছোট ভাই সানজিদের কাছ থেকে ভাড়া নেন।   আওয়ামীলীগের শাসনামলে এহসানকে নারায়ণগঞ্জেই আসতে দেয়নি ভাড়াটিয়া উচ্ছাসের সহযোগিতায় কারাগারে থাকা ছোট ভাই ও মেজো ভাই কায়সার হাসনাত। এ ভবনের ফ্লোরগুলো ভাড়া নেয়ার পর থেকেই উচ্ছাস শামীম ওসমান ও আজমেরী ওসমানকে এহসানের অর্ধেক ভবনের ভাড়া নিয়মিত প্রদান করে আসছে ভাড়াটিয়া উচ্ছাস। উচ্ছাসের ভাড়া নেয়া চুক্তিপত্রের মধ্যে সানজিদ একা স্বাক্ষর করে।   এতে স্বাক্ষী রাখা হয় শামীম ওসমান ও কায়সার হাসনাতকে। বঞ্চিত করা হয় বড় ভাই এহসানকে। এ ভবনের মালিকানায় সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত নেই। এহসান ও সানজিদ যৌথ মালিক।  ৫ আগষ্টে শামীম ওসমান ও আজমেরী ওসমান পালিয়ে যাবার পর উচ্ছাসের মাধ্যম্য কিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে এহসানের অংশের ভাড়ার টাকা ভারতে পৌছে দিয়ে আসছে ভাড়াটিয়া উচ্ছাস ও সানজিদ।   নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের যত মিছিল হয়েছে তার অর্থ যোগান দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এর মধ্যে এই টাকা বন্টন নিজেরা না করে সাবেক এক ইউপি চেয়াম্যানের স্ত্রী ও শামীম ওসমানের একসময়ের ৫ খলিফার মৃত এক খলিফার স্ত্রীর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও লিংক রোডের মিছিলগুলো সংগঠিত হচ্ছে বলে খোদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট একটি সুত্র এ তথ্য জানিয়েছে।   অয়ন ওসমান ও আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী নামের ভাড়াটিয়া উচ্ছাসের বিরুদ্ধে মিডিয়ায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার না করে নিরীহ ও নির্যাতিত এহসানকে আটকের ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন।   বঞ্চিত এহসান হাসনাত প্রথমে নাসিক প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে প্রতিকারের জন্য আবেদন করেন। তিনি উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে এহসানের পাওনা অংশ বুঝিয়ে দিতে শালীসি শেষে রায় প্রদান করেন। তাতেও কর্ণপাত না করায় এহসান হাসনাত নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের কাছে সহায়তা চেয়ে একটি আবেদন করেন।   সেই আবেদনের বিষয়ে তার মালিকানা কাগজপত্র দিতে এহসান ১৫ অক্টোবর আছর নামাজের পর প্রেসক্লাব ভবনে আসেন। তার কাগজপত্র দেবার পর তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নীচে নামলে ডিবি পুলিশ তাকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আসা একজন বিচার প্রার্থীকে এভাবে বিনা অপরাধে তুলে নেয়ায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ সংবাদপত্র কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের মেইন স্টীমে কর্মরত সাংবাদিকদের আন্ডার ষ্টিমেট কররছেন?   প্রথমে ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের পরে এহসান হাসনাতকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যান ঢাকার গুলশান থানায়। সেখানে এহসান হাসনাতের স্ত্রী যে মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজাপ্রাপ্ত বলে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, সে মামলা থেকে তিনি যে অব্যাহতি পেয়েছেন তার প্রমানপত্র নিয়ে যাবার পর রাত পৌনে ৩টায় গুলশান থানা থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি ছাড়া পাবার পর ডিবি পুলিশ গুলশান থানা থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন।   বিষয়টি জানতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জেলার উদ্ধতন কর্তপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলায় গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যের নমুনা কি এটি? একজন বঞ্চিত ও নিরীহ মানুষকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আটক রেখে আরেক থানায় পাঠানো? ফ্যাসিষ্টদের দোসর ভাড়াটিয়া উচ্ছাসকে গ্রেফতার না করে একজন নিরাপরাধ মানুষকে আটক করে হয়রানিতে ফেলা কতটা যুক্তিসংগত? নাকি এখানে নেপথ্যে অন্য কিছু রয়েছে? এ প্রশ্ন নগরবাসির।  এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে গণগ্রেফতারে কতজন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই আমরা প্রকাশ করব। নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকরা শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। খবরের পেছনের খবর নিয়ে প্রতিবেদন এখন  খুব একটা দেখা যায় না। গত সরকারের মত সাংবাদিকতার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে সাধারণ মানুষকে রক্ষায়।

আটকের প্রায় ৮ ঘন্টা পরে আব্দুল্লাহ আল এহসান মুক্ত