নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিচিত বাণিজ্যিক ভবন গ্রান্ড হলের পানির বিল বাবদ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা। ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আট বছরের পানির বিল বকেয়া দেখিয়ে ভবনটির সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নামে নোটিশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে পানির বিলের এই নোটিশকে কেন্দ্র করে গ্রান্ড হলের মালিকানা, ভবন থেকে অর্জিত ভাড়া, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটির মালিকানার ৫০ শতাংশের দাবিদার বড় ভাই এহসান হাসনাত অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভবনের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ছোট ভাই সানজিদ হাসনাত এবং উচ্ছাস নামের এক ব্যক্তির প্রভাব ও সহযোগিতায় তিনি নিজের সম্পত্তির আর্থিক হিসাব জানতে পারছেন না।
নাসিকের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে ‘মিসেস সানজিদা হাসনাত’-এর নামে পানির বিল বাবদ বকেয়া পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে ঠিকানা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৩/৭, বি বি রোড উল্লেখ রয়েছে। গ্রাহক আইডি দেওয়া হয়েছে ১৫০২৬।
নোটিশের হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভবনের মাসিক সম্ভাব্য পানির ব্যবহার ১ হাজার ৪৫০ ইউনিট এবং প্রতি ইউনিটের মূল্য ১৮ টাকা ৩৬ পয়সা ধরে মাসিক বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬২২ টাকা। ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বকেয়া হিসাবের সঙ্গে সারচার্জ যুক্ত করে মোট ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ওই হিসাবের বিপরীতে কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।
পানির বিলের এই নোটিশের বাইরে গ্রান্ড হলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এহসান হাসনাত। তাঁর দাবি, ভবনটির ৫০ শতাংশ মালিকানা তাঁর হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভবন থেকে কত টাকা ভাড়া আদায় হচ্ছে, সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং ভবনের আয়কর ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য আর্থিক দায় কত—এসব বিষয়ে তাঁকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, ভবনের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব না থাকায় তিনি নিজের প্রাপ্য আর্থিক অধিকার সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারছেন না।
এহসান হাসনাতের অভিযোগ, ছোট ভাই সানজিদ হাসনাতকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছাস নামের ওই ব্যক্তি ভবনটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে তিনি কার্যত নিজের সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে ভবনের মালিকানার দলিল, ভাড়ার চুক্তি, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্সের রেকর্ড পর্যালোচনা ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এহসান হাসনাত আরও অভিযোগ করেছেন, উচ্ছাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক নথি, লেনদেনের তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য; এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
গ্রান্ড হলের পানির বিলের দীর্ঘদিনের বকেয়া এবং ভবনের আয়-ব্যয় নিয়ে বড় ভাইয়ের অভিযোগ—দুটি বিষয়ই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রাখে। পানির বিল কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, ভবনের প্রকৃত মালিকানা কার কতটুকু, ভাড়া থেকে অর্জিত অর্থের হিসাব কী এবং কর পরিশোধের অবস্থা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে সানজিদ হাসনাত, উচ্ছাস এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ শহরের পরিচিত বাণিজ্যিক ভবন গ্রান্ড হলের পানির বিল বাবদ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) পাওনা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা। ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আট বছরের পানির বিল বকেয়া দেখিয়ে ভবনটির সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নামে নোটিশ দিয়েছে সিটি করপোরেশন। নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
তবে পানির বিলের এই নোটিশকে কেন্দ্র করে গ্রান্ড হলের মালিকানা, ভবন থেকে অর্জিত ভাড়া, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটির মালিকানার ৫০ শতাংশের দাবিদার বড় ভাই এহসান হাসনাত অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভবনের প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ছোট ভাই সানজিদ হাসনাত এবং উচ্ছাস নামের এক ব্যক্তির প্রভাব ও সহযোগিতায় তিনি নিজের সম্পত্তির আর্থিক হিসাব জানতে পারছেন না।
নাসিকের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নোটিশে ‘মিসেস সানজিদা হাসনাত’-এর নামে পানির বিল বাবদ বকেয়া পাওনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে ঠিকানা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৩/৭, বি বি রোড উল্লেখ রয়েছে। গ্রাহক আইডি দেওয়া হয়েছে ১৫০২৬।
নোটিশের হিসাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভবনের মাসিক সম্ভাব্য পানির ব্যবহার ১ হাজার ৪৫০ ইউনিট এবং প্রতি ইউনিটের মূল্য ১৮ টাকা ৩৬ পয়সা ধরে মাসিক বিল নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬২২ টাকা। ২০১৮ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বকেয়া হিসাবের সঙ্গে সারচার্জ যুক্ত করে মোট ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৮ টাকা পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ওই হিসাবের বিপরীতে কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।
পানির বিলের এই নোটিশের বাইরে গ্রান্ড হলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এহসান হাসনাত। তাঁর দাবি, ভবনটির ৫০ শতাংশ মালিকানা তাঁর হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভবন থেকে কত টাকা ভাড়া আদায় হচ্ছে, সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং ভবনের আয়কর ও হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য আর্থিক দায় কত—এসব বিষয়ে তাঁকে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, ভবনের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব না থাকায় তিনি নিজের প্রাপ্য আর্থিক অধিকার সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে পারছেন না।
এহসান হাসনাতের অভিযোগ, ছোট ভাই সানজিদ হাসনাতকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছাস নামের ওই ব্যক্তি ভবনটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে তিনি কার্যত নিজের সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের হিসাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তবে ভবনের মালিকানার দলিল, ভাড়ার চুক্তি, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্সের রেকর্ড পর্যালোচনা ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এহসান হাসনাত আরও অভিযোগ করেছেন, উচ্ছাসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিলে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক নথি, লেনদেনের তথ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য; এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।
গ্রান্ড হলের পানির বিলের দীর্ঘদিনের বকেয়া এবং ভবনের আয়-ব্যয় নিয়ে বড় ভাইয়ের অভিযোগ—দুটি বিষয়ই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি রাখে। পানির বিল কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, ভবনের প্রকৃত মালিকানা কার কতটুকু, ভাড়া থেকে অর্জিত অর্থের হিসাব কী এবং কর পরিশোধের অবস্থা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এ বিষয়ে সানজিদ হাসনাত, উচ্ছাস এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন