দৈনিক সোজা সাপটা

বিএনপির বিরোধে জামায়াতের সুযোগ



বিএনপির বিরোধে জামায়াতের সুযোগ
বিএনপির বিরোধে জামায়াতের সুযোগ

সোজাসাপটা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে আদালতপাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করে আসা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ এবার নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েক মাস পর সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা।

গত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই বিরোধ নির্বাচনের সময় ভোটের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সমর্থন ভাগ হয়ে গেলে জামায়াতপন্থীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন হিসাবই করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ।

আদালতপাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের বিরোধ অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে একজন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি আদালতপাড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দেয়।

বিরোধের একদিকে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অন্যদিকে রয়েছেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন আইনজীবী। আদালত ভবনের একটি কক্ষে প্রবেশের পর সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাঁকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ঘটনার পর বিরোধে জড়িত নেতাদের বিষয়ে দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। নোটিশে গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দলীয় পর্যায়ে এই পদক্ষেপের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ আরও আলোচনায় এসেছে। এক পক্ষের কাছে বিষয়টি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন, অন্য পক্ষের কাছে তা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামাল দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় কি না, কিংবা বিরোধ নির্বাচনের মাঠ পর্যন্ত গড়ায় কি না—সেদিকেই নজর রাখছেন আদালতপাড়ার আইনজীবীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুধু পেশাজীবীদের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয় নয়; স্থানীয় রাজনীতিতেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম, মামলা পরিচালনা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা এবং দলীয় কর্মসূচিতে আইনজীবীদের ভূমিকা থাকায় সমিতির নেতৃত্বকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ বরাবরই লক্ষ করা যায়। ফলে নির্বাচনের আগে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়াকে জামায়াতপন্থীরা নিজেদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন।

গত নির্বাচনে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের দুর্বল ফলাফলের পর এবার তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করা। শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া সহজ হবে না। প্রার্থী নির্বাচন, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ভোটারদের সমর্থন আদায় এবং প্যানেলভিত্তিক ঐক্য গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিএনপির বিরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জামায়াতপন্থীরা সেই পরিস্থিতি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে বিএনপির ভোট কতটা ভাগ হবে, কিংবা সেই সুযোগে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা কতটা এগোতে পারবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সমঝোতা, প্রার্থী প্রত্যাহার কিংবা প্যানেলভিত্তিক ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান বিরোধের চিত্র বদলে যেতে পারে। একইভাবে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও নির্বাচনী প্রস্তুতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরোধ এখন নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এত দিন যে নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বড় ভূমিকা রাখত, সেখানে এবার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির বিরোধ যদি ভোটের মাঠেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্য ধরে রাখতে পারে, নাকি সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে জামায়াতপন্থীরা সমিতির নেতৃত্বের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হয়।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপির বিরোধে জামায়াতের সুযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সোজাসাপটা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে আদালতপাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে সমিতির নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তার করে আসা বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ এবার নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েক মাস পর সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে বিএনপির দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা।

গত নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই বিরোধ নির্বাচনের সময় ভোটের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সমর্থন ভাগ হয়ে গেলে জামায়াতপন্থীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন হিসাবই করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের কেউ কেউ।

আদালতপাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের বিরোধ অবশ্য এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও নেতৃত্বকেন্দ্রিক টানাপোড়েনের মধ্যেই গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে একজন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি আদালতপাড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দেয়।

বিরোধের একদিকে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। অন্যদিকে রয়েছেন সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধানসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন আইনজীবী। আদালত ভবনের একটি কক্ষে প্রবেশের পর সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও তাঁকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

ঘটনার পর বিরোধে জড়িত নেতাদের বিষয়ে দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। নোটিশে গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়। সেখানে অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান, জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দলীয় পর্যায়ে এই পদক্ষেপের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ আরও আলোচনায় এসেছে। এক পক্ষের কাছে বিষয়টি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন, অন্য পক্ষের কাছে তা অভ্যন্তরীণ বিরোধ সামাল দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় কি না, কিংবা বিরোধ নির্বাচনের মাঠ পর্যন্ত গড়ায় কি না—সেদিকেই নজর রাখছেন আদালতপাড়ার আইনজীবীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শুধু পেশাজীবীদের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয় নয়; স্থানীয় রাজনীতিতেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। আদালতকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম, মামলা পরিচালনা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা এবং দলীয় কর্মসূচিতে আইনজীবীদের ভূমিকা থাকায় সমিতির নেতৃত্বকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ বরাবরই লক্ষ করা যায়। ফলে নির্বাচনের আগে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়াকে জামায়াতপন্থীরা নিজেদের জন্য সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন।

গত নির্বাচনে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের দুর্বল ফলাফলের পর এবার তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করা। শুধু বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া সহজ হবে না। প্রার্থী নির্বাচন, আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, ভোটারদের সমর্থন আদায় এবং প্যানেলভিত্তিক ঐক্য গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিএনপির বিরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জামায়াতপন্থীরা সেই পরিস্থিতি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে বিএনপির ভোট কতটা ভাগ হবে, কিংবা সেই সুযোগে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা কতটা এগোতে পারবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সমঝোতা, প্রার্থী প্রত্যাহার কিংবা প্যানেলভিত্তিক ঐক্যের মাধ্যমে বর্তমান বিরোধের চিত্র বদলে যেতে পারে। একইভাবে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও নির্বাচনী প্রস্তুতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিরোধ এখন নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। এত দিন যে নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বড় ভূমিকা রাখত, সেখানে এবার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিএনপির বিরোধ যদি ভোটের মাঠেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে ঐক্য ধরে রাখতে পারে, নাকি সেই ফাঁক কাজে লাগিয়ে জামায়াতপন্থীরা সমিতির নেতৃত্বের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হয়।



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বিএনপির বিরোধে জামায়াতের সুযোগ
0:00 / 0:00
1x