কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে চলছে আগাম ভোট, অন্যদিকে প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ক্যালগেরিতে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে কানাডার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আগামী ১৯ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ব্যালটে রয়েছে ১০টি প্রশ্ন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
যদিও এবারের ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নতার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে আলবার্টা কানাডা থেকে আলাদা হয়ে যাবে না। পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নতার প্রশ্ন ছাড়াও অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাদেশিক ক্ষমতা ও সংবিধানসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে।
ক্যালগেরিতে কার্নির প্রচার, ঐক্যের ওপর জোর
নির্বাচন কে ঘিরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যালগেরিতে ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি আলবার্টার বাসিন্দাদের কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটের অন্য নয়টি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ঐক্য ও সম্মিলিত স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
কার্নি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধের প্রেক্ষাপটে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিভাজন নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তার মতে, বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ আলবার্টা ও কানাডার অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রদেশটির ফেডারেল নীতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তার বক্তব্য, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা, অভিবাসন ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে দর-কষাকষির জন্য প্রদেশের আরও শক্তিশালী অবস্থান প্রয়োজন। এ কারণেই গণভোটের অন্য প্রস্তাবগুলোর প্রতি তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কানাডার সঙ্গে থাকা না-থাকার প্রশ্নে কার্নি ও স্মিথের অবস্থান কাছাকাছি হলেও বাকি নয়টি প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদ, রাজস্ব এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের সমর্থকেরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। ফলে এই গণভোট কেবল প্রাদেশিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং কানাডার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও ফেডারেল কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনকে ঘিরে আলবার্টার নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রচুর সংখ্যক ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অগ্রিম ভোট দিতে দেখা গেছে। ১৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, আর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ২৯ অক্টোবর।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোট ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। একদিকে চলছে আগাম ভোট, অন্যদিকে প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে ক্যালগেরিতে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই মুহূর্তে কানাডার ঐক্য ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আগামী ১৯ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ব্যালটে রয়েছে ১০টি প্রশ্ন। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো—আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
যদিও এবারের ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নতার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে আলবার্টা কানাডা থেকে আলাদা হয়ে যাবে না। পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নতার প্রশ্ন ছাড়াও অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, প্রাদেশিক ক্ষমতা ও সংবিধানসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ভোট নেয়া হচ্ছে।
ক্যালগেরিতে কার্নির প্রচার, ঐক্যের ওপর জোর
নির্বাচন কে ঘিরে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যালগেরিতে ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি আলবার্টার বাসিন্দাদের কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটের অন্য নয়টি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ঐক্য ও সম্মিলিত স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
কার্নি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যবিরোধের প্রেক্ষাপটে কানাডার অভ্যন্তরীণ বিভাজন নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তার মতে, বিচ্ছিন্নতার উদ্যোগ আলবার্টা ও কানাডার অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। তবে প্রদেশটির ফেডারেল নীতি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তার বক্তব্য, ফেডারেল সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা, অভিবাসন ও অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে দর-কষাকষির জন্য প্রদেশের আরও শক্তিশালী অবস্থান প্রয়োজন। এ কারণেই গণভোটের অন্য প্রস্তাবগুলোর প্রতি তিনি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে কানাডার সঙ্গে থাকা না-থাকার প্রশ্নে কার্নি ও স্মিথের অবস্থান কাছাকাছি হলেও বাকি নয়টি প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদ, রাজস্ব এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষের সমর্থকেরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জাতীয় ঐক্য ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। ফলে এই গণভোট কেবল প্রাদেশিক রাজনীতির বিষয় নয়, বরং কানাডার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও ফেডারেল কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনকে ঘিরে আলবার্টার নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও প্রচুর সংখ্যক ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অগ্রিম ভোট দিতে দেখা গেছে। ১৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, আর আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ২৯ অক্টোবর।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন