সোজাসাপটা রিপোর্ট
ঢাকাকে অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচি চালালেও ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির দিনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় ধরনের প্রকাশ্য তৎপরতা চোখে পড়েনি। বরং কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান ছিল দৃশ্যমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির পক্ষে প্রচার চালিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অচল করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনাও ঘটে।
এর মধ্যে শনিবার সকালে রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মিছিল থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের ঢাকার ‘লকডাউন’ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাছুম চৌধুরী অপুকে। এর আগের রাতেও একই এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের খবর পাওয়া যায়।
এর আগে বন্দরের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের সময় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় লাঠিসোঁটা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লার জামতলা এলাকাতেও নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে।
এমন ধারাবাহিক ঝটিকা কর্মসূচির পর ২০ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। জেলা পুলিশ শনিবারের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ১১ সদস্যসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের মিছিল এবং মোটরসাইকেল শোডাউন দেখা যায়। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের নেতৃত্বেও মোটরসাইকেল শোডাউনের খবর পাওয়া যায়।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ২০ সেপ্টেম্বরকে সামনে রেখে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তারা মাঠে থাকবেন। সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তার বিষয়টিকেও তারা গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
এদিকে রোববারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বড় কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি বা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান দেখা না গেলেও গত কয়েকদিনের ঝটিকা মিছিলের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। জেলা পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা তৎপরতা, অন্যদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পাল্টা অবস্থান—সব মিলিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে ২০ সেপ্টেম্বরের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির দিনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে আগের দিনের মতো আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দৃশ্যমান বড় কোনো মিছিল বা অবস্থান এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

আপনার মতামত লিখুন :