সাংবাদিকতা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে সংবাদ সংগ্রহ, সত্য তুলে ধরা এবং মানুষের কথা বলার মধ্য দিয়েই নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মিন্টু। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন চিরকুমার। সংসারজীবনে না জড়িয়ে তিনি নিজের জীবনকে সাংবাদিকতা, সহকর্মী ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত রেখেছিলেন।
সহকর্মীদের কাছে মিন্টু ছিলেন একজন সহজ-সরল, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিনি পেশাগত দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। খবরের পেছনে ছুটে বেড়ানো, মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরা এবং সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে লেখালেখিই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ।
চিরকুমার থাকার কারণে তাঁর জীবন হয়তো প্রচলিত অর্থে পারিবারিক সংসারে আবদ্ধ ছিল না। কিন্তু মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পরিধি ছিল বিস্তৃত। সাংবাদিকতার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের নিয়েই গড়ে উঠেছিল তাঁর আপন জগৎ। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকতুল্য, আবার কারও কাছে ছিলেন নির্ভরতার একজন মানুষ।
ব্যক্তিজীবনে নিজের জন্য আলাদা কোনো সংসার না গড়লেও মানুষের সুখ-দুঃখকে তিনি নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছিলেন। কারও বিপদে পাশে দাঁড়ানো, সহকর্মীর প্রয়োজনে সহযোগিতা করা কিংবা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের উৎসাহ দেওয়া—এসব মানবিক গুণ তাঁকে সবার কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তুলেছিল। তাঁর জীবনযাপন ছিল সাদাসিধে, কিন্তু মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ছিল গভীর।
মিন্টুর চিরকুমার জীবনকে শুধু একাকিত্বের গল্প হিসেবে দেখলে তাঁর জীবনের বড় একটি দিক অদৃশ্য থেকে যায়। পরিবার না থাকলেও তাঁর চারপাশে ছিল অসংখ্য মানুষ। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অনেক সময় পারিবারিক বন্ধনের মতোই ছিল। সাংবাদিকতা ছিল তাঁর পেশা, আবার একই সঙ্গে ছিল তাঁর নেশা ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
মিন্টুর মৃত্যুর পর তাঁর চিরকুমার জীবনের কথাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি হয়তো নিজের জন্য বড় কোনো সংসার গড়ে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর কর্ম ও স্মৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসার বন্ধন।
আজ তিনি নেই। নেই তাঁর ব্যস্ততা, নেই পরিচিত কণ্ঠস্বর। তবে তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন এবং মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক তাঁকে স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখবে। চিরকুমার মিন্টুর জীবনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হয়ে থাকবে তাঁর কর্ম, সততা, সরলতা ও মানুষের ভালোবাসা।

আপনার মতামত লিখুন :