ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিজারে বিলম্ব, অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬

সিজারে বিলম্ব, অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতির অস্ত্রোপচারে বিলম্বের কারণে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) আড়াইহাজার পৌরসভার দুপ্তারা চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রসূতির নাম তানিয়া। তার স্বামীর নাম শফিক।
পরিবারের অভিযোগ, গত রাতে রাত ১টার দিকে প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে তানিয়াকে আড়াইহাজার প্রবাসী কল্যাণ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় দ্রুত সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের কথা বলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্বজনদের দাবি, ভর্তি করার পর চিকিৎসার জন্য বিলকিস আক্তার ওরফে কেয়া এবং অজ্ঞান করার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক মাজেদসহ সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বে ছিলেন। অস্ত্রোপচার কক্ষের দায়িত্বে ছিলেন ওটি সিস্টার আরিফা। 
পরিবারের অভিযোগ, রাতেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত পরদিন সকাল প্রায় ১১টার দিকে প্রসূতির সিজার করা হয়। দীর্ঘ সময় পর অস্ত্রোপচার করায় শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত শিশুটিকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুটিকে মাতুয়াইলের একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, শিশুটি সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার বিষয়ে যাতে তারা কোনো অভিযোগ না করেন, সে জন্য তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আড়াইহাজার প্রবাসী কল্যাণ হাসপাতালের মালিক হযরত আলী। 
তিনি বলেন, রোগীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া বা টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। চিকিৎসায়ও কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না।
এদিকে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

Link copied!