ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থানায় টাকার জন্য মারধরের অভিযোগ!

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

থানায় টাকার জন্য মারধরের অভিযোগ!

সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় আটক বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির পর মারধর করে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 
ভুক্তভোগী আরমান হোসেনের অভিযোগ, থানায় খাবার দিতে গেলে দারোগা রুহুল আমিন তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর করে বাম পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় এই ঘটনা ঘটে। 
ভুক্তভোগী আরমান হোসেন আড়াইহাজারের গহরদী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলছিল। ওই মামলায় দেলোয়ারসহ কয়েকজন আসামি রয়েছেন। মামলার একপর্যায়ে উচ্চ আদালত থেকে আসামিদের একজন জামিন পান। পরে দেলোয়ার আটক হলে তার স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, দেলোয়ার আটকের পর থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারোগা রুহুল আমিন আসামির স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে খাবার দিতে আড়াইহাজার থানায় যান আনোয়ারের ছেলে আরমান। এ সময় দারোগা রুহুল আমিন আবারও টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তার বাম পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরমান হোসেন বলেন, থানায় টাকার জন্য আমাকে মেরে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরে পুরো ঘটনা বলবো।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন জানান, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আরমানকে পূর্ব থেকে দেখিনি আর চিনিও না। কে মারছে বা কারা মারছে তা থানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই জানা যাবে। সে আহত হওয়ার পর তাকে আমি দেখেছি। আর তার কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগও মিথ্যা। আমি তার কাছে কোন ভাবেই টাকা চাইনি। সে তার স্বপক্ষে কোন প্রমাণও দেখাতে পারবে না। তারা বাবাকে রিমান্ডে আনার কারনেই সে এমন মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে বলেই আমার ধারণা।

Link copied!