তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি কার্যক্রমে মোংলা বন্দরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে রপ্তানি কার্যক্রমে বিকল্প বন্দর ব্যবহারের বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকায় বিকেএমইএ কার্যালয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মুস্তফা এবং বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মোংলা বন্দর চেয়ারম্যান জানান, বন্দরে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট এবং ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের জেটিগুলোতে একই সময়ে সর্বোচ্চ ৫২টি জাহাজ রাখার সুবিধা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
দেশের পোশাক খাতের আরও বেশি রপ্তানি চালান মোংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সম্ভাবনা অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আরএমজি খাতের রপ্তানি কার্যক্রমে মোংলা বন্দরকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মোংলা বন্দর সাশ্রয়ী ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে নির্ভরযোগ্য এবং দক্ষ সেবা নিশ্চিত করতে পারলে তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি কার্যক্রমে এ বন্দরের ব্যবহার আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কার্গো ডেলিভারিতে সময়ানুবর্তিতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ জন্য মোংলা বন্দরের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি সেবার ঘাটতি ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোহাম্মদ হাতেম। একই সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের সমন্বয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। ওই বৈঠকে মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা, সেবার সীমাবদ্ধতা এবং পরিচালনাগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য সমাধান নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি পণ্য পরিবহনে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও বাস্তব ব্যবহারের সুযোগগুলো আরও যাচাই করার বিষয়টি সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের সেবা আরও কার্যকর করা গেলে ভবিষ্যতে আরএমজি রপ্তানিতে মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :