ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আ.লীগের সেমিনার করতে দেয়নি দিল্লি পুলিশ

সাদনান আল নূর তিয়ান সাদনান আল নূর তিয়ান

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৬

আ.লীগের সেমিনার করতে দেয়নি দিল্লি পুলিশ

বাংলাদেশের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি)। তবে দিল্লি পুলিশের শেষ মুহূর্তের বাধায় শেষ পর্যন্ত সেমিনারটি করতে পারেননি তারা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এফসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটির অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সেমিনারটি বাতিল করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে বিবিসি বাংলা জানায়, এফসিসি এর আগে তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সেমিনারটির প্রচারপত্র প্রকাশ করেছিল।
এতে অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ও বক্তাদের তালিকা দেওয়া হয়। সেমিনারে বক্তা হিসেবে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদের।
এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রিসহ আরও কয়েকজনের আলোচক হিসেবে থাকার কথা ছিল।
এফসিসির সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ নন্দ বলেন, ‘তারা শুধু আমাদের বলেছে, এই অনুষ্ঠান করার অনুমতি নেই।
তবে ঠিক কী কারণে অনুমতি নেই বা কেন তারা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করেছে, সেটি জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’
সেমিনারে নিরাপত্তা চেয়ে করা আবেদনে অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে পুলিশ যেকোনো সময়ে যেকোনো অনুষ্ঠান বাতিল করার অধিকার রাখে।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে বিবিসি বাংলা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের বক্তব্য পায়নি।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর নতুন করে টানাপোড়েন
এর আগে চলতি মাসের ৫ আগস্ট এফসিসি দিল্লিতে আরেকটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যের পর ঢাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা শুভজ্যোতি ঘোষ জানান, ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতার পর দিল্লি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে প্রকাশ্য কোনো অনুষ্ঠান করতে দিতে চাইছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিকদের কয়েকজনও প্রায় একই ধরনের মত দিয়েছেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্যের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। এ কারণে একই ধরনের আরেকটি অনুষ্ঠান দিল্লি চায়নি বলে তারা মনে করছেন।
যে সেমিনার বাতিল হলো
দিল্লিতে বাতিল হওয়া সেমিনারটির বিষয় ছিল ‘ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়ালগ টু আ পার্টনারশিপ’। এফসিসি মূলত দিল্লিতে কর্মরত বিদেশি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের একটি সংগঠন।
গত ২৭ আগস্ট এফসিসির এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জানানো হয়, বেলজিয়ামভিত্তিক ‘হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছে।
এফসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
প্রচারপত্রে প্যানেল বক্তা হিসেবে সেলিম মাহমুদ ছাড়াও বাংলাদেশি-আমেরিকান বিজ্ঞানী ও মানবাধিকারকর্মী নূরুন নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী ও রোহিঙ্গা ইউনাইটেড ইয়ুথ নেটওয়ার্কের সভাপতি রবি আলম এবং ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের সভাপতি আসিফ ইকবালের নাম ছিল।
আলোচকদের তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি, ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক রাজনীতিবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল এবং এফসিসি-আইএপিসি গ্লোবাল ফোরামের চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ।

Link copied!