দৈনিক সোজা সাপটা

নারায়ণগঞ্জ শহরে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির শঙ্কা।

রাত বাড়লেই আতঙ্ক



রাত বাড়লেই আতঙ্ক
রাত বাড়লেই আতঙ্ক

নারায়ণগঞ্জ শহরে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির শঙ্কা। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও দেরিতে বাসায় ফেরা পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা এবং চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শহরের চাষাঢ়া থেকে মাসদাইর কবরস্থান পর্যন্ত সড়ককে বর্তমানে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলায় এ সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একইভাবে দুই নম্বর রেলগেট, দেওভোগ, নিতাইগঞ্জ, জিমখানা ও ইসদাইর এলাকার বিভিন্ন সড়কেও সক্রিয় রয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। সুযোগ বুঝে পথচারীদের গতিরোধ করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এসব ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। রাতের শিফট শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহ দেখান না বলে জানা গেছে।

গত ৫ জুন মাসদাইর কবরস্থানের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া আসিফ জানান, রাত ১১টার দিকে বন্ধুর বাসা থেকে ফেরার সময় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

জামতলা এলাকার চায়ের দোকানদার আফজাল হোসেন বলেন, প্রায়ই রাতে ছিনতাইয়ের খবর শুনতে হয়। কয়েকদিন আগেও কলেজ রোড এলাকায় একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধ করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে এখন ভয় লাগে।

অন্যদিকে শহরে চুরির ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈদ্যুতিক তার, সড়কবাতি, বাড়ির এসির পাইপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেক এলাকায় রাতের বেলায় অন্ধকারও বেড়েছে।

চুরির সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের আওতায় শত শত সড়কবাতি বসানো হলেও বর্তমানে সড়কের বড় অংশই অন্ধকারে নিমজ্জিত। জেলা প্রশাসনের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন স্থান থেকে বাতি ও বৈদ্যুতিক তার খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

শুধু লিংক রোড নয়, নগর ভবনের সামনের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের স্ট্রিট লাইটও চুরির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লিংক রোডের স্ট্রিট লাইট চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিংক রোড, মাসদাইর, জিমখানা, ইসদাইরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি ও টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কেবল মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, সড়কবাতির কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা উদ্যোগ ছাড়া নগরবাসীর আতঙ্ক দূর হবে না। তাদের দাবি, উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


রাত বাড়লেই আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ শহরে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ছিনতাই ও চুরির শঙ্কা। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, গার্মেন্টস শ্রমিক ও দেরিতে বাসায় ফেরা পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের তৎপরতা এবং চুরির ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শহরের চাষাঢ়া থেকে মাসদাইর কবরস্থান পর্যন্ত সড়ককে বর্তমানে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলায় এ সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। রাত ১০টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সময়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

একইভাবে দুই নম্বর রেলগেট, দেওভোগ, নিতাইগঞ্জ, জিমখানা ও ইসদাইর এলাকার বিভিন্ন সড়কেও সক্রিয় রয়েছে ছিনতাইকারী চক্র। সুযোগ বুঝে পথচারীদের গতিরোধ করে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

এসব ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। রাতের শিফট শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেকেই ছিনতাইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতে আগ্রহ দেখান না বলে জানা গেছে।

গত ৫ জুন মাসদাইর কবরস্থানের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া আসিফ জানান, রাত ১১টার দিকে বন্ধুর বাসা থেকে ফেরার সময় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

জামতলা এলাকার চায়ের দোকানদার আফজাল হোসেন বলেন, প্রায়ই রাতে ছিনতাইয়ের খবর শুনতে হয়। কয়েকদিন আগেও কলেজ রোড এলাকায় একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। দোকান বন্ধ করে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতে এখন ভয় লাগে।

অন্যদিকে শহরে চুরির ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈদ্যুতিক তার, সড়কবাতি, বাড়ির এসির পাইপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেক এলাকায় রাতের বেলায় অন্ধকারও বেড়েছে।

চুরির সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত স্ট্রিট লাইট প্রকল্পের আওতায় শত শত সড়কবাতি বসানো হলেও বর্তমানে সড়কের বড় অংশই অন্ধকারে নিমজ্জিত। জেলা প্রশাসনের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন স্থান থেকে বাতি ও বৈদ্যুতিক তার খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

শুধু লিংক রোড নয়, নগর ভবনের সামনের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের স্ট্রিট লাইটও চুরির শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

লিংক রোডের স্ট্রিট লাইট চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লিংক রোড, মাসদাইর, জিমখানা, ইসদাইরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি ও টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, কেবল মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত পুলিশি টহল, পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, সড়কবাতির কার্যকর ব্যবস্থা এবং জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা উদ্যোগ ছাড়া নগরবাসীর আতঙ্ক দূর হবে না। তাদের দাবি, উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।



দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
রাত বাড়লেই আতঙ্ক
0:00 / 0:00
1x