নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনপর সাবেক সংসদ সদস্য ও গণহত্যায় অভিযুক্ত শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের সরকারি ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হাফিজুর রহমান মান্না এখন কিশোরগঞ্জে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পুনর্বাসিত হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করা ওসমানদের এই দোসরের সংসদে নিয়মিত যাতায়াতও রয়েছে।
জানা গেছে মান্না এমপি ইকবালের পিএস হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মান্না আলোচনায় এসেছিলেন ২০২৩ সালে। সে সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোজাসাপটা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবু সাউদ মাসুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সম্পাদক মাসুদকে কাবু করতে না পেরে সেসময় একের পর এক মামলা দিয়ে হেনস্থা ও পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিল এই মান্নার।
পাঁচ আগষ্টে আওয়ামী লীগের পতনের পরে অনেকের ওপর রাহুর প্রভাব পড়লেও বেঁচে যান ইকবাল। নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে প্রকাশ্যে এসেছেন মান্না।
জানা যায় ২০১৪ সালে অটোপাশের নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি হলে তার সরকারি পিএস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মান্না ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, সরকারি দপ্তরের যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সে সময় আলোচিত ছিল।
এছাড়াও ওসমানদের চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানান অপকর্মে জড়িত ছিলেন মান্না। আওয়ামী লীগের আমলে বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
পাঁচ আগষ্টের পরে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের মতো মান্নাও আড়ালে চলে গেছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অথচ সম্প্রতি তাকে কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে সেখানেও ইকবালের পাশে দেখা যায় মান্নাকে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী জানান, মান্না প্রসঙ্গে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা থাকা উচিত।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, যদি কারও বিরুদ্ধে সত্যিকারের অনিয়ম বা অপব্যবহারের প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই আইনগতভাবে মোকাবিলা করা উচিত। আর মান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা নয়। এই মান্না আওয়ামী আমলে শামীম ওসমানের প্রভাব খাতিয়ে নানা অপকর্ম করেছেন তার বিচার হওয়া দরকার।
মাওলানা আব্দুল জব্বার জানান, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশেই আমরা দেখি কিছু ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থাকেন। এ ধরনের বিষয়গুলো যদি সত্য হয়, তাহলে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, বরং আইনগত কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, “গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দোষারোপ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সত্য ঘটনা আড়াল করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
মামুন মাহমুদ বলেন, যদি কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনপর সাবেক সংসদ সদস্য ও গণহত্যায় অভিযুক্ত শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের সরকারি ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হাফিজুর রহমান মান্না এখন কিশোরগঞ্জে সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পুনর্বাসিত হয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করা ওসমানদের এই দোসরের সংসদে নিয়মিত যাতায়াতও রয়েছে।
জানা গেছে মান্না এমপি ইকবালের পিএস হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই ইকবাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
মান্না আলোচনায় এসেছিলেন ২০২৩ সালে। সে সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোজাসাপটা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আবু সাউদ মাসুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। সম্পাদক মাসুদকে কাবু করতে না পেরে সেসময় একের পর এক মামলা দিয়ে হেনস্থা ও পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিল এই মান্নার।
পাঁচ আগষ্টে আওয়ামী লীগের পতনের পরে অনেকের ওপর রাহুর প্রভাব পড়লেও বেঁচে যান ইকবাল। নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে প্রকাশ্যে এসেছেন মান্না।
জানা যায় ২০১৪ সালে অটোপাশের নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি হলে তার সরকারি পিএস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মান্না ধীরে ধীরে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শামীম ওসমানের রাজনৈতিক বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, সরকারি দপ্তরের যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা সে সময় আলোচিত ছিল।
এছাড়াও ওসমানদের চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজিসহ নানান অপকর্মে জড়িত ছিলেন মান্না। আওয়ামী লীগের আমলে বিপুল পরিমান সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
পাঁচ আগষ্টের পরে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেকের মতো মান্নাও আড়ালে চলে গেছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। অথচ সম্প্রতি তাকে কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবালের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে সেখানেও ইকবালের পাশে দেখা যায় মান্নাকে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী জানান, মান্না প্রসঙ্গে যেসব আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা থাকা উচিত।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, যদি কারও বিরুদ্ধে সত্যিকারের অনিয়ম বা অপব্যবহারের প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই আইনগতভাবে মোকাবিলা করা উচিত। আর মান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা নয়। এই মান্না আওয়ামী আমলে শামীম ওসমানের প্রভাব খাতিয়ে নানা অপকর্ম করেছেন তার বিচার হওয়া দরকার।
মাওলানা আব্দুল জব্বার জানান, নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশেই আমরা দেখি কিছু ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বলয়ে থাকেন। এ ধরনের বিষয়গুলো যদি সত্য হয়, তাহলে অবশ্যই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, বরং আইনগত কাঠামোর মধ্যেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, “গুজব বা অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দোষারোপ করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সত্য ঘটনা আড়াল করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
মামুন মাহমুদ বলেন, যদি কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটি রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন