মুন্সিগঞ্জ–-নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে মুক্তারপুর–পঞ্চপটি সড়ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ চরসৈয়দপুর দ্বিতল (ডাবল ডেকার) সড়ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই ৬ দশমিক ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে যাচ্ছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল নারায়ণগঞ্জ শহর, মুন্সিগঞ্জ এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যান চলাচল সহজ করা, যানজট কমানো এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা। বিশেষ করে মুক্তারপুর টু পঞ্চপটি রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্প–বাণিজ্য করিডোর হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও যানজট ছিল অন্যতম প্রধান সমস্যা।
নতুন এই চরসৈয়দপুর দ্বিতল সড়কটি নির্মিত হয়েছে আধুনিক প্রকৌশল নকশা অনুসরণ করে। সড়কটির উপরের স্তর বা দ্বিতীয় তলা ৩৭ ফুট চওড়া, যেখানে দুই লেনের যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিচের স্তরটি ৫৪ ফুট চওড়া চার লেনবিশিষ্ট এবং সেটি আগের মতোই টোল ফ্রি রাখা হচ্ছে।
সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি ৯০ মিটার পর পর একাধিক ফাংশন জয়েন্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত মানের পিচ ঢালাই ও কম্প্যাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সড়কটি ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে পারে।
নতুন এই দ্বিতীয় তলা সড়কে যানবাহন চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিচের চার লেনবিশিষ্ট অংশটি সাধারণ যান চলাচলের জন্য আগের মতোই টোল মুক্ত থাকবে।
এই দ্বিস্তর সড়ক ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন ভারী যানবাহনের চাপ উপরের স্তরে বিভক্ত হবে, তেমনি নিচের স্তরে স্থানীয় যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এতে করে পুরো রুটে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুক্তারপুর ও পঞ্চপটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতালাকরণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল টিমের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সড়কের মূল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং, সাইনেজ স্থাপন, লাইটিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে।
প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান,চরসৈয়দপুর দ্বিতীয় তলা সড়কের নির্মাণ কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য সড়কটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে।
তিনি আরও জানান, সড়কের কাঠামোগত নিরাপত্তা, জয়েন্টের স্থায়িত্ব এবং ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার সক্ষমতা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই সড়কটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক। বিশেষ করে পোশাক শিল্প, আমদানি–রপ্তানি পণ্য পরিবহন এবং মুন্সিগঞ্জ–ঢাকা করিডোরের যানবাহন চলাচলে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে মুক্তারপুর বন্দর, নারায়ণগঞ্জ শহর এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ধুলাবালি, যানজট এবং চলাচল সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।
তবে সড়কটি চালু হওয়ার খবর এলাকায় নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।
তবে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা টোল ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দ্বিতীয় তলা সড়কে টোল থাকলে মাঝারি ও ছোট পরিবহন খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুতগামী ও ভারী যানবাহনের জন্য আলাদা অবকাঠামো ব্যবহারের সুবিধা দিতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সড়ক চালুর আগে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যারিয়ার, আলোকসজ্জা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই রুটকে আরও সম্প্রসারণ করে শিল্পাঞ্চল সংযোগ আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেই চরসৈয়দপুর দ্বিতীয় তলা সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে নির্মাণসাইটে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
মুন্সিগঞ্জ–-নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে মুক্তারপুর–পঞ্চপটি সড়ক আধুনিকায়ন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ চরসৈয়দপুর দ্বিতল (ডাবল ডেকার) সড়ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই ৬ দশমিক ২৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে যাচ্ছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল নারায়ণগঞ্জ শহর, মুন্সিগঞ্জ এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে যান চলাচল সহজ করা, যানজট কমানো এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা। বিশেষ করে মুক্তারপুর টু পঞ্চপটি রুটটি দেশের অন্যতম ব্যস্ত শিল্প–বাণিজ্য করিডোর হওয়ায় এখানে দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও যানজট ছিল অন্যতম প্রধান সমস্যা।
নতুন এই চরসৈয়দপুর দ্বিতল সড়কটি নির্মিত হয়েছে আধুনিক প্রকৌশল নকশা অনুসরণ করে। সড়কটির উপরের স্তর বা দ্বিতীয় তলা ৩৭ ফুট চওড়া, যেখানে দুই লেনের যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নিচের স্তরটি ৫৪ ফুট চওড়া চার লেনবিশিষ্ট এবং সেটি আগের মতোই টোল ফ্রি রাখা হচ্ছে।
সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি ৯০ মিটার পর পর একাধিক ফাংশন জয়েন্ট বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত মানের পিচ ঢালাই ও কম্প্যাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে সড়কটি ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করতে পারে।
নতুন এই দ্বিতীয় তলা সড়কে যানবাহন চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিচের চার লেনবিশিষ্ট অংশটি সাধারণ যান চলাচলের জন্য আগের মতোই টোল মুক্ত থাকবে।
এই দ্বিস্তর সড়ক ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে যেমন ভারী যানবাহনের চাপ উপরের স্তরে বিভক্ত হবে, তেমনি নিচের স্তরে স্থানীয় যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এতে করে পুরো রুটে যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুক্তারপুর ও পঞ্চপটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতালাকরণ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল টিমের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সড়কের মূল নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং, সাইনেজ স্থাপন, লাইটিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে।
প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান,চরসৈয়দপুর দ্বিতীয় তলা সড়কের নির্মাণ কাজ এখন চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য সড়কটি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে।
তিনি আরও জানান, সড়কের কাঠামোগত নিরাপত্তা, জয়েন্টের স্থায়িত্ব এবং ভারী যানবাহনের চাপ সহ্য করার সক্ষমতা ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এই সড়কটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক। বিশেষ করে পোশাক শিল্প, আমদানি–রপ্তানি পণ্য পরিবহন এবং মুন্সিগঞ্জ–ঢাকা করিডোরের যানবাহন চলাচলে এই সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে মুক্তারপুর বন্দর, নারায়ণগঞ্জ শহর এবং আশপাশের শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলমান নির্মাণকাজের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ধুলাবালি, যানজট এবং চলাচল সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।
তবে সড়কটি চালু হওয়ার খবর এলাকায় নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।
তবে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা টোল ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দ্বিতীয় তলা সড়কে টোল থাকলে মাঝারি ও ছোট পরিবহন খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুতগামী ও ভারী যানবাহনের জন্য আলাদা অবকাঠামো ব্যবহারের সুবিধা দিতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সড়ক চালুর আগে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যারিয়ার, আলোকসজ্জা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই রুটকে আরও সম্প্রসারণ করে শিল্পাঞ্চল সংযোগ আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহেই চরসৈয়দপুর দ্বিতীয় তলা সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে নির্মাণসাইটে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন