নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ক্রোনী গ্রুপের পোশাক কারখানা ‘অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেড’-এর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও শ্রম আইন অনুযায়ী সকল পাওনা পরিশোধ এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার অপসারণ এবং কথিত ‘দালাল সিন্ডিকেট’ ভেঙে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
রবিবার শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অবন্তি কালার টেক্সের ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেডের শত শত শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মালিকপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শ্রমিক নেতারা বলেন, “শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মালিকপক্ষ কোনো দায় নিচ্ছে না।”
এসময় নেতৃবৃন্দ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপমহাপরিচালক রাজিব চন্দ্র ঘোষ ও সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদে একটি শক্তিশালী ‘দালাল সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, “শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এই সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে বিসিক শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী শ্রমিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে সকল শ্রমিক-কর্মচারীর বকেয়া বেতন ও শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনাদি এককালীন পরিশোধ, শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে দ্রুত কারখানা চালু এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপমহাপরিচালক রাজিব চন্দ্র ঘোষ ও সহকারী পরিচালক ওমর ফারুককে অপসারণ।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গোলকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী এবং অবন্তি কালার টেক্সের সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের শ্রমিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ বিসিক শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ক্রোনী গ্রুপের পোশাক কারখানা ‘অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেড’-এর শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা ও শ্রম আইন অনুযায়ী সকল পাওনা পরিশোধ এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার অপসারণ এবং কথিত ‘দালাল সিন্ডিকেট’ ভেঙে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
রবিবার শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অবন্তি কালার টেক্সের ভুক্তভোগী শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধি দল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, অবন্তি কালার টেক্স লিমিটেডের শত শত শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মালিকপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শ্রমিক নেতারা বলেন, “শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার চাইতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ মালিকপক্ষ কোনো দায় নিচ্ছে না।”
এসময় নেতৃবৃন্দ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপমহাপরিচালক রাজিব চন্দ্র ঘোষ ও সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, এই দুই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদদে একটি শক্তিশালী ‘দালাল সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, “শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করছেন। এই সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে বিসিক শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী শ্রমিক শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
স্মারকলিপিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে সকল শ্রমিক-কর্মচারীর বকেয়া বেতন ও শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনাদি এককালীন পরিশোধ, শ্রমিকদের জীবিকার স্বার্থে দ্রুত কারখানা চালু এবং শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে উপমহাপরিচালক রাজিব চন্দ্র ঘোষ ও সহকারী পরিচালক ওমর ফারুককে অপসারণ।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গোলকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী এবং অবন্তি কালার টেক্সের সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের শ্রমিকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন