সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হলেও দলটির শীর্ষ নেতাদের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলে। হোসিয়ারি সমিতি ভবনের অফিস দখলের অভিযোগ, শুভ চন্দ্র হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, টিপুর কার্যালয়ের পাশ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং সায়েম প্লাজায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা, শহরের হকার নিয়ন্ত্রণে তার বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উঠলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর বিরোধীদলের নেতারা টিপুর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। টিপুকে ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্কের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি। দলের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ—কেউই এগিয়ে আসেননি টিপুকে থামাতে। একের পর এক বিতর্কে জড়ালেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা সাংগঠনিকভাবে সতর্ক করার খবরও পাওয়া যায়নি।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টিপুর কর্মকাণ্ডের কারণে মহানগর বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একের পর এক ঘটনায় দলের নাম আলোচনায় এলেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের নীরবতা নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে সায়েম প্লাজায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া জানান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরকার। ভিডিওটি প্রকাশ করে তিনি টিপুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের নিন্দা জানান। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী। শহরের ফুটপাত ও হকার ব্যবস্থাপনায় টিপুর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। ওই সময় টিপুর ভাই বিল্লালের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী হকার দলের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। হকার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওই কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের পর সংগঠনটির কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
জামায়াতের পক্ষ থেকেও টিপুকে নিয়ে সরাসরি বক্তব্য এসেছে সীমিত পরিসরে। মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ মোমিন টিপুর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে লেখেন, ‘শ্রদ্ধেয় বিএনপির নেতা টিপু ভাইকে কিছুদিন বিশ্রামে যাওয়া দরকার। কাছের মানুষ যারা আছেন বিষয়টি দেখবেন কিনা?’
তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো টিপুর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে বিতর্ক ও অভিযোগ উঠলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না আসায় রাজনৈতিক মহলে নীরবতা নিয়ে আলোচনা ছিল।
সব মিলিয়ে টিপুকে ঘিরে অভিযোগ ও বিতর্ক যতই বাড়ছে, ততই অস্বস্তিতে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা সীমিত পরিসরে প্রতিক্রিয়া জানালেও বিএনপির নিজস্ব নেতৃত্বের নীরবতা তৃণমূলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দলীয় তদন্ত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত না এলে বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোজাসাপটা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হলেও দলটির শীর্ষ নেতাদের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলে। হোসিয়ারি সমিতি ভবনের অফিস দখলের অভিযোগ, শুভ চন্দ্র হত্যা মামলার আসামিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, টিপুর কার্যালয়ের পাশ থেকে মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং সায়েম প্লাজায় এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা, শহরের হকার নিয়ন্ত্রণে তার বিরুদ্ধে নানা প্রশ্ন উঠলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর বিরোধীদলের নেতারা টিপুর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। টিপুকে ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্কের মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট অবস্থান পাওয়া যায়নি। দলের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ—কেউই এগিয়ে আসেননি টিপুকে থামাতে। একের পর এক বিতর্কে জড়ালেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা সাংগঠনিকভাবে সতর্ক করার খবরও পাওয়া যায়নি।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টিপুর কর্মকাণ্ডের কারণে মহানগর বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একের পর এক ঘটনায় দলের নাম আলোচনায় এলেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের নীরবতা নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। তাদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে সায়েম প্লাজায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া জানান জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবায়ের সরকার। ভিডিওটি প্রকাশ করে তিনি টিপুর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগের নিন্দা জানান। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী। শহরের ফুটপাত ও হকার ব্যবস্থাপনায় টিপুর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। ওই সময় টিপুর ভাই বিল্লালের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী হকার দলের কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়। হকার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ওই কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের পর সংগঠনটির কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
জামায়াতের পক্ষ থেকেও টিপুকে নিয়ে সরাসরি বক্তব্য এসেছে সীমিত পরিসরে। মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ মোমিন টিপুর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে লেখেন, ‘শ্রদ্ধেয় বিএনপির নেতা টিপু ভাইকে কিছুদিন বিশ্রামে যাওয়া দরকার। কাছের মানুষ যারা আছেন বিষয়টি দেখবেন কিনা?’
তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো টিপুর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে বিতর্ক ও অভিযোগ উঠলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না আসায় রাজনৈতিক মহলে নীরবতা নিয়ে আলোচনা ছিল।
সব মিলিয়ে টিপুকে ঘিরে অভিযোগ ও বিতর্ক যতই বাড়ছে, ততই অস্বস্তিতে পড়ছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা সীমিত পরিসরে প্রতিক্রিয়া জানালেও বিএনপির নিজস্ব নেতৃত্বের নীরবতা তৃণমূলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে দলীয় তদন্ত ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত না এলে বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন