সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশের নিটওয়্যার খাতে পানির সাশ্রয়ী ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ডঅঝঐ) সেবা উন্নয়নে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বিকেএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী এবং বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিকেএমইএর পরিচালক প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন রিপন ও কমপ্লায়েন্স সেলের যুগ্ম সচিব ফারজানা শারমিনসহ সংগঠনটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিটওয়্যার খাতের জন্য একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। কারখানায় অপ্রয়োজনীয় পানির ব্যবহার কমানো, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহৃত পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মতো উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া টেকসই পানি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ডঅঝঐ সেবা উন্নয়ন এবং বিকেএমইএর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ঊঝএ) ব্যবস্থায় পানি ব্যবহারের তথ্য আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, পানিকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে শিল্পকারখানার মালিক ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর সঠিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো যাতে পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সহজলভ্য করা জরুরি।
পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বিকেএমইএর অধীনে পৃথক পানি সেল, ফোকাল ব্যক্তি ও একটি নিবেদিত দল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে পানির সর্বোত্তম ব্যবহার, অপচয় কমানো এবং ব্যবহৃত পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়ন সুবিধা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা যৌথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে নিটওয়্যার খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অংশীদারত্বের প্রাথমিক পর্যায় আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কারখানার মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবহারিক সেমিনার, নির্বাচিত সদস্য কারখানায় প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ নিটওয়্যার কারখানাগুলোতে পানির দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পরিবেশসচেতন বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোজাসাপটা রিপোর্ট
দেশের নিটওয়্যার খাতে পানির সাশ্রয়ী ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ডঅঝঐ) সেবা উন্নয়নে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বিকেএমইএর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী এবং বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিকেএমইএর পরিচালক প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন রিপন ও কমপ্লায়েন্স সেলের যুগ্ম সচিব ফারজানা শারমিনসহ সংগঠনটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিটওয়্যার খাতের জন্য একটি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। কারখানায় অপ্রয়োজনীয় পানির ব্যবহার কমানো, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস, পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহৃত পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহার এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মতো উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া টেকসই পানি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়নের সুযোগ অনুসন্ধান, শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ডঅঝঐ সেবা উন্নয়ন এবং বিকেএমইএর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ঊঝএ) ব্যবস্থায় পানি ব্যবহারের তথ্য আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগও খতিয়ে দেখা হবে।
অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, পানিকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে শিল্পকারখানার মালিক ও শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর সঠিক ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো যাতে পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সহজলভ্য করা জরুরি।
পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বিকেএমইএর অধীনে পৃথক পানি সেল, ফোকাল ব্যক্তি ও একটি নিবেদিত দল গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, পানি জীবনের জন্য অপরিহার্য হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে পানির সর্বোত্তম ব্যবহার, অপচয় কমানো এবং ব্যবহৃত পানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহারের সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি পানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ অর্থায়ন সুবিধা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা যৌথভাবে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে নিটওয়্যার খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অংশীদারত্বের প্রাথমিক পর্যায় আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, কারখানার মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যবহারিক সেমিনার, নির্বাচিত সদস্য কারখানায় প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং সরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ নিটওয়্যার কারখানাগুলোতে পানির দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পরিবেশসচেতন বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের নিটওয়্যার খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এ অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন