দৈনিক সোজা সাপটা

কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে চাষাড়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অবৈধ স্থাপনামুক্ত করা হয়েছিল। তবে সেই জায়গায়

ফের দখল চাষাড়া রেলওয়ের জমি



ফের দখল চাষাড়া রেলওয়ের জমি
ফের দখল চাষাড়া রেলওয়ের জমি

সোজাসাপটা রিপোর্ট
কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে চাষাড়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অবৈধ স্থাপনামুক্ত করা হয়েছিল। তবে সেই জায়গায় আবারও গড়ে উঠেছে একের পর এক দোকানপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকান বসানোর ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করা, অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া এবং পরে মাসিক ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও রেলওয়ের কর্মচারী ও শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান। যদিও তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মজিবুর রহমান আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের গেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে তিনি পদোন্নতি পেয়ে পয়েন্টসম্যান পদে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ রেল শ্রমিকদলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। 
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলওয়ের জমিতে সোনার তরী রেস্তোরা, মাখন বিরিয়ানী এন্ড রেস্তোরাসহ জুতার দোকান, বাসের টিকিট কাউন্টারসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। রাস্তার বিপরীতে মহিলা কলেজের সামনেও রেলের জমিতে রয়েছে কয়েকটি দোকান। এছাড়া, পুরো স্টেশন এলাকায় আরও অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ স্থাপনা রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠেছে। রেলওয়ের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া রেললাইনের নিরাপত্তা সীমার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক বলেন, রেল শ্রমিক নেতা মজিবুর সাহেব এই দোকানের বিষয়ে জানেন। তাঁকে জানিয়েই আমরা দোকান বসিয়েছি।”
আরেক দোকানদার জানান, তিনি প্রতি মাসে অপু নামে একজনকে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া দেন।
অপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডেভিড ভাইয়ের ভাগিনা রানা মামা এই দোকানগুলোর ভাড়া নেন।
এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার নাম উঠে আসলেও তিনি বলেন, ভাইঙ্গা দেন ভাই, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মচারীর অভিযোগ, দোকান বসানোর পাশাপাশি সেগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সেই বিদ্যুতের বিলের টাকাও আদায় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই দোকানগুলো বসিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেই বিদ্যুতের টাকাও নেওয়া হচ্ছে।
রেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কয়েক মাস আগে রেলওয়ে অভিযান চালিয়ে চাষাড়া স্টেশনসহ নারায়ণগঞ্জে রেলের জমিতে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু পরে জায়গাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকায় আবারও বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে নতুন করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফারুক বলেন, রেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁদের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে মহানগর শ্রমিকদলের কোনো আপত্তি আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, মজিবুর মূলত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির পরিচয় দিচ্ছেন। ০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাকে আমরা মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কো অপ্ট করি। তাঁকে হাইব্রিড নেতাও বলা যেতে পারে। 
০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মহানগর শ্রমিকদলের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মজিবুর রহমান বলেন, “এটা সত্য যে আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মহানগর শ্রমিকদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তবে আমি ২০২১ সাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ রেল শ্রমিকদলের সভাপতি হিসেবে আছি। তাহলে আমি হাইব্রিড হলাম কীভাবে?”
রেলের জমি ভাড়া ও অগ্রিম টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুর রহমান বলেন, আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। তারা হয়তো রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট টিপু জানেন।
তবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, রেলের জায়গার বিষয়ে আমি কীভাবে জানব? আমি কিছুই জানি না।
চাষাড়া স্টেশন মাস্টার সুজন বলেন, তিনি চাষাড়া ও নিমতলি—দুটি স্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই নির্দিষ্ট করে কারা জায়গা দখল করেছে, তা বলতে পারছেন না। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য তিনি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য আমি একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। স্টেশন মাস্টার এ প্রতিবেদকের কাছে এ-সংক্রান্ত দুটি চিঠির অনুলিপিও দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো কীভাবে আবার দখল হলো, কারা সেখানে দোকান বসানোর সুযোগ দিল এবং কারা নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


ফের দখল চাষাড়া রেলওয়ের জমি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সোজাসাপটা রিপোর্ট
কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে চাষাড়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি অবৈধ স্থাপনামুক্ত করা হয়েছিল। তবে সেই জায়গায় আবারও গড়ে উঠেছে একের পর এক দোকানপাট। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকান বসানোর ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে সহযোগিতা করা, অগ্রিম হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া এবং পরে মাসিক ভাড়া আদায়ের সঙ্গে জড়িত মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানা ও রেলওয়ের কর্মচারী ও শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান। যদিও তারা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মজিবুর রহমান আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের গেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে তিনি পদোন্নতি পেয়ে পয়েন্টসম্যান পদে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি নিজেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ রেল শ্রমিকদলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। 
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলওয়ের জমিতে সোনার তরী রেস্তোরা, মাখন বিরিয়ানী এন্ড রেস্তোরাসহ জুতার দোকান, বাসের টিকিট কাউন্টারসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। রাস্তার বিপরীতে মহিলা কলেজের সামনেও রেলের জমিতে রয়েছে কয়েকটি দোকান। এছাড়া, পুরো স্টেশন এলাকায় আরও অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ স্থাপনা রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠেছে। রেলওয়ের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া রেললাইনের নিরাপত্তা সীমার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকান মালিক বলেন, রেল শ্রমিক নেতা মজিবুর সাহেব এই দোকানের বিষয়ে জানেন। তাঁকে জানিয়েই আমরা দোকান বসিয়েছি।”
আরেক দোকানদার জানান, তিনি প্রতি মাসে অপু নামে একজনকে ১৮ হাজার টাকা ভাড়া দেন।
অপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডেভিড ভাইয়ের ভাগিনা রানা মামা এই দোকানগুলোর ভাড়া নেন।
এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার নাম উঠে আসলেও তিনি বলেন, ভাইঙ্গা দেন ভাই, আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মচারীর অভিযোগ, দোকান বসানোর পাশাপাশি সেগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং সেই বিদ্যুতের বিলের টাকাও আদায় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই দোকানগুলো বসিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেই বিদ্যুতের টাকাও নেওয়া হচ্ছে।
রেল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কয়েক মাস আগে রেলওয়ে অভিযান চালিয়ে চাষাড়া স্টেশনসহ নারায়ণগঞ্জে রেলের জমিতে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু পরে জায়গাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকায় আবারও বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে নতুন করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব ফারুক বলেন, রেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁদের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে মহানগর শ্রমিকদলের কোনো আপত্তি আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
ফারুকের দাবি, মজিবুর মূলত ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিএনপির পরিচয় দিচ্ছেন। ০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তাকে আমরা মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কো অপ্ট করি। তাঁকে হাইব্রিড নেতাও বলা যেতে পারে। 
০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে মহানগর শ্রমিকদলের সাথে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মজিবুর রহমান বলেন, “এটা সত্য যে আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মহানগর শ্রমিকদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তবে আমি ২০২১ সাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ রেল শ্রমিকদলের সভাপতি হিসেবে আছি। তাহলে আমি হাইব্রিড হলাম কীভাবে?”
রেলের জমি ভাড়া ও অগ্রিম টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মজিবুর রহমান বলেন, আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই। তারা হয়তো রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট টিপু জানেন।
তবে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, রেলের জায়গার বিষয়ে আমি কীভাবে জানব? আমি কিছুই জানি না।
চাষাড়া স্টেশন মাস্টার সুজন বলেন, তিনি চাষাড়া ও নিমতলি—দুটি স্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন। তাই নির্দিষ্ট করে কারা জায়গা দখল করেছে, তা বলতে পারছেন না। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য তিনি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য আমি একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। স্টেশন মাস্টার এ প্রতিবেদকের কাছে এ-সংক্রান্ত দুটি চিঠির অনুলিপিও দিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কয়েক মাস আগে উচ্ছেদ করা জায়গাগুলো কীভাবে আবার দখল হলো, কারা সেখানে দোকান বসানোর সুযোগ দিল এবং কারা নিয়মিত ভাড়া আদায় করছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ফের দখল চাষাড়া রেলওয়ের জমি
0:00 / 0:00
1x