দৈনিক সোজা সাপটা

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিতাইগঞ্জ একসময় ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র।

নিতাইগঞ্জ: বন্ধ ৩৫ লবণ মিল



নিতাইগঞ্জ: বন্ধ ৩৫ লবণ মিল
নিতাইগঞ্জ: বন্ধ ৩৫ লবণ মিল

সোজাসাপটা ডেস্ক
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিতাইগঞ্জ একসময় ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। নদীপথের সহজ যোগাযোগকে ঘিরে শত বছর আগে যে ব্যবসায়িক বলয় তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই নিতাইগঞ্জকে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় মোকামে পরিণত করে। পাট, নৌযান, মিল-কারখানা আর পাইকারি ব্যবসার ব্যস্ততায় দিন-রাত সরগরম থাকত পুরো এলাকা।
কিন্তু সেই চেনা চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একসময়কার কর্মচাঞ্চল্য ধীরে ধীরে কমছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক মিল-কারখানা। কমেছে ব্যবসায়িক লেনদেনও। নিতাইগঞ্জের পুরোনো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গম, আটা-ময়দা, ডাল, চিনি ও লবণসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মিল-কারখানা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।
৭২ আটা-ময়দা মিলের বন্ধ ১২টি
নারায়ণগঞ্জ জেলা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির তথ্য বলছে, ১৯৬০-এর দশকে নিতাইগঞ্জে গম থেকে আটা উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের দিকে উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়। ২০০০ সালের পর মিলগুলোতে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহারও শুরু হয়।
একপর্যায়ে নিতাইগঞ্জের বি কে রোড ও কাচারি গলির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠে ৭২টি আটা-ময়দার মিল। তবে সময়ের ব্যবধানে এর মধ্যে ১২টি মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি চালু থাকা মিলগুলোতেও আগের তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
লবণের ৪২ মিল এখন চালু মাত্র ৭টি
নিতাইগঞ্জে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে লবণ শিল্পে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এলাকায় লবণের মিল ছিল ৪২টি। বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৫টি লবণের মিল। হিসাব অনুযায়ী, এ খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ মিলই এখন আর উৎপাদনে নেই।
চালু থাকা ‘গরিবে নেওয়াজ’ লবণ মিলের মালিক জামাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, একসময় তারা নিয়মিত লবণ উৎপাদন করতেন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে নিয়মিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। একই কারণে নিতাইগঞ্জের ৩৫টি লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
ডালের মিলেও নেমেছে ধ্বস
লবণের মতো নিতাইগঞ্জের ডাল শিল্পও সংকটের মুখে পড়েছে। একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসুর, খেসারি, মুগ, মাষকলাই ও ছোলাসহ নানা ধরনের ডাল সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল নিতাইগঞ্জ।
বি কে দাস রোড এলাকায় একসময় ৩৫টি ডালের মিল গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। এর মধ্যে ৬টি মিল চালু থাকলেও অন্য ৬টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ ডালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মিলই এখন কার্যত উৎপাদনের বাইরে।
নিতাইগঞ্জ ডাল মিল মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বিকাশ সাহা বলেন, একসময় দেশের ডালের বড় একটি অংশ নিতাইগঞ্জের মিলগুলো থেকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করায় ছোট ও মাঝারি মিলগুলো টিকে থাকতে পারছে না।
তার ভাষ্য, অবশিষ্ট মিলগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তা না হলে বর্তমানে চালু থাকা মিলগুলোর অনেকগুলোও ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করপোরেট প্রতিযোগিতা
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নিতাইগঞ্জের মিল ও মোকামগুলো সংকটে পড়ার পেছনে শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই দায়ী নয়। এখানকার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও ব্যবসার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিনের যানজট ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচের মুখে ফেলছে। নিতাইগঞ্জের সরু ও ব্যস্ত সড়কে বড় ট্রাক সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় অনেক সময় দূরে ট্রাক রেখে দিতে হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে শ্রমিকের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে যেমন সময় বাড়ে, তেমনি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় নিতাইগঞ্জের মিল ও মোকামগুলোকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
২০০ কোটি টাকার লেনদেন নেমেছে ৫০ কোটিতে
নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার আরেকটি বড় উদাহরণ দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ। নিতাইগঞ্জের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শংকর সাহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই মোকামে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো।
বর্তমানে সেই লেনদেন নেমে এসেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে আগের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও আর দেখা যায় না।
নিত্যপণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ নিতাইগঞ্জ
তবে নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিতাইগঞ্জের গুরুত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ এই মোকাম থেকে সরবরাহ করা হয়।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সরকার যদি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করে, তাহলে নিতাইগঞ্জের মিল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা গেলে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যকেন্দ্রের হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব। নইলে একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিতাইগঞ্জের শত বছরের ব্যবসায়িক পরিচয়ও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তথ্যসুত্র : সমাচার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


নিতাইগঞ্জ: বন্ধ ৩৫ লবণ মিল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সোজাসাপটা ডেস্ক
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী নিতাইগঞ্জ একসময় ছিল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। নদীপথের সহজ যোগাযোগকে ঘিরে শত বছর আগে যে ব্যবসায়িক বলয় তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই নিতাইগঞ্জকে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বড় মোকামে পরিণত করে। পাট, নৌযান, মিল-কারখানা আর পাইকারি ব্যবসার ব্যস্ততায় দিন-রাত সরগরম থাকত পুরো এলাকা।
কিন্তু সেই চেনা চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একসময়কার কর্মচাঞ্চল্য ধীরে ধীরে কমছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক মিল-কারখানা। কমেছে ব্যবসায়িক লেনদেনও। নিতাইগঞ্জের পুরোনো ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গম, আটা-ময়দা, ডাল, চিনি ও লবণসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মিল-কারখানা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।
৭২ আটা-ময়দা মিলের বন্ধ ১২টি
নারায়ণগঞ্জ জেলা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির তথ্য বলছে, ১৯৬০-এর দশকে নিতাইগঞ্জে গম থেকে আটা উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৯৬৫ সালের দিকে উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়। ২০০০ সালের পর মিলগুলোতে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহারও শুরু হয়।
একপর্যায়ে নিতাইগঞ্জের বি কে রোড ও কাচারি গলির প্রায় এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গড়ে ওঠে ৭২টি আটা-ময়দার মিল। তবে সময়ের ব্যবধানে এর মধ্যে ১২টি মিল ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি চালু থাকা মিলগুলোতেও আগের তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
লবণের ৪২ মিল এখন চালু মাত্র ৭টি
নিতাইগঞ্জে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে লবণ শিল্পে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এলাকায় লবণের মিল ছিল ৪২টি। বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৭টি। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে ৩৫টি লবণের মিল। হিসাব অনুযায়ী, এ খাতের প্রায় ৮০ শতাংশ মিলই এখন আর উৎপাদনে নেই।
চালু থাকা ‘গরিবে নেওয়াজ’ লবণ মিলের মালিক জামাল উদ্দিন দেওয়ান বলেন, একসময় তারা নিয়মিত লবণ উৎপাদন করতেন। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে নিয়মিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। একই কারণে নিতাইগঞ্জের ৩৫টি লবণ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
ডালের মিলেও নেমেছে ধ্বস
লবণের মতো নিতাইগঞ্জের ডাল শিল্পও সংকটের মুখে পড়েছে। একসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসুর, খেসারি, মুগ, মাষকলাই ও ছোলাসহ নানা ধরনের ডাল সরবরাহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল নিতাইগঞ্জ।
বি কে দাস রোড এলাকায় একসময় ৩৫টি ডালের মিল গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২টিতে। এর মধ্যে ৬টি মিল চালু থাকলেও অন্য ৬টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অর্থাৎ ডালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মিলই এখন কার্যত উৎপাদনের বাইরে।
নিতাইগঞ্জ ডাল মিল মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বিকাশ সাহা বলেন, একসময় দেশের ডালের বড় একটি অংশ নিতাইগঞ্জের মিলগুলো থেকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করায় ছোট ও মাঝারি মিলগুলো টিকে থাকতে পারছে না।
তার ভাষ্য, অবশিষ্ট মিলগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তা না হলে বর্তমানে চালু থাকা মিলগুলোর অনেকগুলোও ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
করপোরেট প্রতিযোগিতা
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নিতাইগঞ্জের মিল ও মোকামগুলো সংকটে পড়ার পেছনে শুধু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই দায়ী নয়। এখানকার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও ব্যবসার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশেষ করে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিনের যানজট ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচের মুখে ফেলছে। নিতাইগঞ্জের সরু ও ব্যস্ত সড়কে বড় ট্রাক সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় অনেক সময় দূরে ট্রাক রেখে দিতে হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে শ্রমিকের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে যেমন সময় বাড়ে, তেমনি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় নিতাইগঞ্জের মিল ও মোকামগুলোকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
২০০ কোটি টাকার লেনদেন নেমেছে ৫০ কোটিতে
নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার আরেকটি বড় উদাহরণ দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ। নিতাইগঞ্জের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শংকর সাহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই মোকামে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো।
বর্তমানে সেই লেনদেন নেমে এসেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে আগের মতো পাইকারি ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও আর দেখা যায় না।
নিত্যপণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ নিতাইগঞ্জ
তবে নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নিতাইগঞ্জের গুরুত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ এই মোকাম থেকে সরবরাহ করা হয়।
ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, সরকার যদি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করে, তাহলে নিতাইগঞ্জের মিল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা গেলে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বাণিজ্যকেন্দ্রের হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব। নইলে একের পর এক মিল-কারখানা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিতাইগঞ্জের শত বছরের ব্যবসায়িক পরিচয়ও ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তথ্যসুত্র : সমাচার


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নিতাইগঞ্জ: বন্ধ ৩৫ লবণ মিল
0:00 / 0:00
1x