একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে বড় সমাবেশ করে প্রতিপক্ষকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। ‘দশ জনে ভাষণ দেয়, পাঁচ জনেও শুনে না’—এমন মন্তব্য করে প্রতিপক্ষের কর্মসূচিতে লোকসমাগম নিয়ে কটাক্ষও করতে দেখা গেছে তাকে। এবার অনেকটা উল্টো চিত্রই দেখা গেল তার নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের বক্তব্যের সময় সামনে থাকা অধিকাংশ চেয়ার ছিল ফাঁকা।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে মঞ্চে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে মঞ্চের সামনে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য রাখা চেয়ারগুলোর বড় একটি অংশই খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়েছে। শামীম ওসমানের অতীতের বক্তব্য টেনে কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতির মাঠে কখনো কখনো সময়ই সবচেয়ে বড় জবাবদিহির জায়গা তৈরি করে দেয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জে বড় বড় সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিচিত ছিলেন শামীম ওসমান। তার ডাকা কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচিকে প্রায়ই তুলনা করতেন তিনি। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে লোকসমাগম কম—এমন দাবি করে বিভিন্ন সময় বক্তব্যও দিয়েছেন।
সেই সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে তার বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও কটাক্ষের সুর। জনসমাগমকে রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে তুচ্ছ করার ঘটনাও ছিল নিয়মিত।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পাল্টে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছাড়েন শামীম ওসমান। দীর্ঘ সময় প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা না গেলেও ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু থেকে নিউইয়র্কে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে নিউইয়র্কে তার একটি কর্মসূচি ঘিরে আরেকটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। গত ১৬ আগস্ট একটি শোকসভায় অংশ নিতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতির কারণে তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর ১৫ আগস্টের কর্মসূচিতে ফাঁকা চেয়ার সামনে রেখে তার বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একসময় যিনি প্রতিপক্ষের সভায় খালি চেয়ার দেখিয়ে রাজনৈতিক ব্যর্থতার হিসাব কষতেন, এবার তার নিজের বক্তব্যের সামনে খালি চেয়ারই যেন সেই পুরোনো কথাগুলোকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—রাজনীতির মঞ্চে সময়ের পালাবদল কতটা নির্মম হতে পারে।
এদিকে শামীম ওসমান ইতোমধ্যে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সাম্প্রতিক সক্রিয়তা সেই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে।
একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ‘ফাঁকা চেয়ার’ দেখিয়ে প্রশ্ন তোলা শামীম ওসমানের সামনে এখন সেই একই দৃশ্য। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার চেয়ারগুলো তার বক্তব্য শোনার জন্যই বিছানো ছিল।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে বড় সমাবেশ করে প্রতিপক্ষকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। ‘দশ জনে ভাষণ দেয়, পাঁচ জনেও শুনে না’—এমন মন্তব্য করে প্রতিপক্ষের কর্মসূচিতে লোকসমাগম নিয়ে কটাক্ষও করতে দেখা গেছে তাকে। এবার অনেকটা উল্টো চিত্রই দেখা গেল তার নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের বক্তব্যের সময় সামনে থাকা অধিকাংশ চেয়ার ছিল ফাঁকা।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে মঞ্চে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তবে মঞ্চের সামনে দর্শক-শ্রোতাদের জন্য রাখা চেয়ারগুলোর বড় একটি অংশই খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়েছে। শামীম ওসমানের অতীতের বক্তব্য টেনে কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতির মাঠে কখনো কখনো সময়ই সবচেয়ে বড় জবাবদিহির জায়গা তৈরি করে দেয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নারায়ণগঞ্জে বড় বড় সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিচিত ছিলেন শামীম ওসমান। তার ডাকা কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মসূচিকে প্রায়ই তুলনা করতেন তিনি। বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে লোকসমাগম কম—এমন দাবি করে বিভিন্ন সময় বক্তব্যও দিয়েছেন।
সেই সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে তার বক্তব্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও কটাক্ষের সুর। জনসমাগমকে রাজনৈতিক শক্তির অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে তুচ্ছ করার ঘটনাও ছিল নিয়মিত।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা পাল্টে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছাড়েন শামীম ওসমান। দীর্ঘ সময় প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা না গেলেও ২০২৬ সালের আগস্টের শুরু থেকে নিউইয়র্কে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে নিউইয়র্কে তার একটি কর্মসূচি ঘিরে আরেকটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। গত ১৬ আগস্ট একটি শোকসভায় অংশ নিতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরিস্থিতির কারণে তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর ১৫ আগস্টের কর্মসূচিতে ফাঁকা চেয়ার সামনে রেখে তার বক্তব্য দেওয়ার দৃশ্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একসময় যিনি প্রতিপক্ষের সভায় খালি চেয়ার দেখিয়ে রাজনৈতিক ব্যর্থতার হিসাব কষতেন, এবার তার নিজের বক্তব্যের সামনে খালি চেয়ারই যেন সেই পুরোনো কথাগুলোকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—রাজনীতির মঞ্চে সময়ের পালাবদল কতটা নির্মম হতে পারে।
এদিকে শামীম ওসমান ইতোমধ্যে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার সাম্প্রতিক সক্রিয়তা সেই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে।
একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে নিয়ে ‘ফাঁকা চেয়ার’ দেখিয়ে প্রশ্ন তোলা শামীম ওসমানের সামনে এখন সেই একই দৃশ্য। পার্থক্য শুধু একটাই—এবার চেয়ারগুলো তার বক্তব্য শোনার জন্যই বিছানো ছিল।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন