সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ব্যবসা ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মোটামুটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির মতে, ছয় মাসের সময় কোনো সরকারকে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে বেসরকারি খাতকে সহায়তা, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক। বিশেষ করে রুগ্ন, আংশিক বন্ধ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে চালুর জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক হবে। পাশাপাশি কিছু নীতিগত বিষয় সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ। মোহাম্মদ হাতেমের মতে, এই সুবিধা রপ্তানিকারকদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
করনীতিতে আনা বিভিন্ন পরিবর্তনকেও ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শিল্প খাতের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে এই সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ে এর পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি সংকট সমাধানে তাদের পরামর্শ নিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, এলএনজি সংকট সমাধানে দ্রুত কোনো ‘শর্টকাট’ নেই। নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের উল্লেখযোগ্য সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে মনে করছে বিকেএমইএ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং খাত ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সক্ষম হবে—এমন প্রত্যাশা করছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
সরকারের প্রথম ছয় মাসকে ব্যবসা ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মোটামুটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির মতে, ছয় মাসের সময় কোনো সরকারকে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে বেসরকারি খাতকে সহায়তা, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে সরকার বেশ কিছু কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচক। বিশেষ করে রুগ্ন, আংশিক বন্ধ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে চালুর জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক হবে। পাশাপাশি কিছু নীতিগত বিষয় সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
আংশিক রপ্তানিমুখী এবং বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে বিকেএমইএ। মোহাম্মদ হাতেমের মতে, এই সুবিধা রপ্তানিকারকদের কার্যক্রম পরিচালনা সহজ করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
করনীতিতে আনা বিভিন্ন পরিবর্তনকেও ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শিল্প খাতের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির মতে, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে এই সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। ফলে স্বল্প সময়ে এর পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তারপরও প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকার ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি সংকট সমাধানে তাদের পরামর্শ নিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিকেএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, এলএনজি সংকট সমাধানে দ্রুত কোনো ‘শর্টকাট’ নেই। নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সংকটের উল্লেখযোগ্য সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পদক্ষেপ সত্ত্বেও ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে মনে করছে বিকেএমইএ। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিকেএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার গ্যাস-বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং খাত ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে সক্ষম হবে—এমন প্রত্যাশা করছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন