নারায়ণগঞ্জে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে নামার নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোথাও প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। দিনভর শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি বা জমায়েত চোখে পড়েনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। অনেকেই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর পাওয়া গেলেও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রভাবও কার্যত দৃশ্যমানভাবে হারিয়ে যায়। একসময় যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা যেত, সেখানেও এখন তাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই।
বিশেষ করে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঠে নামার আলোচনা থাকলেও বাস্তবে নারায়ণগঞ্জে তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। শহর, সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর প্রকাশ্যে না থাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান সাম্প্রতিক সময়ে আবারও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিউইয়র্কে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে তার অনুসারীদের প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি।
এর আগে নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে শামীম ওসমান ডিসেম্বর মাসে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ওই বক্তব্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলার মাঠের রাজনীতিতে তার অনুসারীদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ১৪ আগস্ট রাত থেকেই নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৪ আগস্ট রাত থেকে ১৬ আগস্ট সকাল পর্যন্ত বাড়তি টহল অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশপথ ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে ১৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শহরে শোডাউন করেন। তারা নৈরাজ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানান।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য, কোনো পক্ষ যাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সহিংসতা বা নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন।
সব মিলিয়ে ১৫ আগস্টকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। একদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা এবং বিএনপির মাঠপর্যায়ের তৎপরতার মধ্য দিয়ে অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই পার হয়েছে দিনটি।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মাঠে নামার নানা আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোথাও প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। দিনভর শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি বা জমায়েত চোখে পড়েনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। অনেকেই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর পাওয়া গেলেও তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দলীয় সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের প্রভাবও কার্যত দৃশ্যমানভাবে হারিয়ে যায়। একসময় যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখা যেত, সেখানেও এখন তাদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই।
বিশেষ করে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে মাঠে নামার আলোচনা থাকলেও বাস্তবে নারায়ণগঞ্জে তেমন কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি। শহর, সদর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দুই বছর প্রকাশ্যে না থাকা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান সাম্প্রতিক সময়ে আবারও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে নিউইয়র্কে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে তার অনুসারীদের প্রকাশ্য কোনো কর্মসূচি চোখে পড়েনি।
এর আগে নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে শামীম ওসমান ডিসেম্বর মাসে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার ওই বক্তব্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হলেও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জেলার মাঠের রাজনীতিতে তার অনুসারীদের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ১৪ আগস্ট রাত থেকেই নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৪ আগস্ট রাত থেকে ১৬ আগস্ট সকাল পর্যন্ত বাড়তি টহল অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশপথ ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে ১৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা শহরে শোডাউন করেন। তারা নৈরাজ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানান।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য, কোনো পক্ষ যাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সহিংসতা বা নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন।
সব মিলিয়ে ১৫ আগস্টকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের কোনো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। একদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতা এবং বিএনপির মাঠপর্যায়ের তৎপরতার মধ্য দিয়ে অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবেই পার হয়েছে দিনটি।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন