নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর, নগ্ন ছবি ধারণ এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিউটি মাসুদা আক্তার মিতু নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুল বাশার (৪০) সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার ভাই-বোনদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন। গ্রামের বাড়ির জমি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন ক্লিনিকের অফিসে থাকা অবস্থায় বিউটি বেগম নামে এক নারী তার এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখার জন্য বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। ওই নারীর অনুরোধে ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবুল বাশার নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া চৌরাস্তায় যান। পরে তাকে একজনের মাধ্যমে কেবি সাহা রোডের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আবুল বাশার অভিযোগ করেন, সেখানে যাওয়ার পর মেহতাব উদ্দিন জিকু, বিউটি বেগমসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার হাতে হাতকড়া পরানো এবং চোখ বেঁধে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে বিউটি বেগমকে পাশে বসিয়ে ছবি ধারণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ছবি স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে নিজের বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা আনেন আবুল বাশার। এরপর তাকে একটি দোকানে নিয়ে ০১৮৫৫১৬২৮৪০ নম্বরে ওই টাকা ক্যাশ আউট করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর ভয় ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানাননি। পরে ৫ জুলাই সকালে ফেসবুক দেখতে গিয়ে তার ছবি ব্যবহার করে কয়েকজনের আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য দেখতে পান। তার অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে অভিযুক্তরা তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এ ঘটনায় ১১ জুলাই আবুল বাশার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১১), ৮(৩) ও ৮(৭) ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১৭১, ৪১৯, ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩২৩, ১২০(বি), ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিউটি মাসুদা আক্তার মিতুকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথাও বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মেহতাব উদ্দিন জিকু, বিউটি বেগম, ইউসুফ শেখ, দেলোয়ার হোসেন, ইসমাইল ও বিল্লালের নাম রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজেদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সদর এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর, নগ্ন ছবি ধারণ এবং সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বিউটি মাসুদা আক্তার মিতু নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী আবুল বাশার (৪০) সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় তার ভাই-বোনদের সঙ্গে যৌথভাবে একটি ক্লিনিক পরিচালনা করেন। গ্রামের বাড়ির জমি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুন ক্লিনিকের অফিসে থাকা অবস্থায় বিউটি বেগম নামে এক নারী তার এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখার জন্য বাসায় যাওয়ার অনুরোধ করেন। ওই নারীর অনুরোধে ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবুল বাশার নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া চৌরাস্তায় যান। পরে তাকে একজনের মাধ্যমে কেবি সাহা রোডের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আবুল বাশার অভিযোগ করেন, সেখানে যাওয়ার পর মেহতাব উদ্দিন জিকু, বিউটি বেগমসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার হাতে হাতকড়া পরানো এবং চোখ বেঁধে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে বিউটি বেগমকে পাশে বসিয়ে ছবি ধারণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ছবি স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে নিজের বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা আনেন আবুল বাশার। এরপর তাকে একটি দোকানে নিয়ে ০১৮৫৫১৬২৮৪০ নম্বরে ওই টাকা ক্যাশ আউট করা হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর ভয় ও সামাজিক সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানাননি। পরে ৫ জুলাই সকালে ফেসবুক দেখতে গিয়ে তার ছবি ব্যবহার করে কয়েকজনের আইডি থেকে মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য দেখতে পান। তার অভিযোগ, পরস্পর যোগসাজশে অভিযুক্তরা তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এ ঘটনায় ১১ জুলাই আবুল বাশার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১১), ৮(৩) ও ৮(৭) ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১৭১, ৪১৯, ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩২৩, ১২০(বি), ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিউটি মাসুদা আক্তার মিতুকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কথাও বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে মেহতাব উদ্দিন জিকু, বিউটি বেগম, ইউসুফ শেখ, দেলোয়ার হোসেন, ইসমাইল ও বিল্লালের নাম রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজেদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনা, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন