ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত একেএম শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে একটি ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে শামীম ওসমানকে বলতে শোনা যায়, “জনগণের শক্তির ওপর, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী হয়ে বলতে চাই-জাতির জনকের কন্যা যা বলেন তা করেন। আমরা ডিসেম্বরে আসছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আসছি।”
এরপর তিনি বলেন, “যে জনগণ মাঠে নামবে, সেই জনগণের সামনে কোনো ট্যাংক-কামান, জঙ্গি-ফঙ্গি কারও অস্তিত্ব থাকবে না।”
শামীম ওসমানের এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আওয়ামী লীগের এই সাবেক সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত এই নেতাকে দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। পরে তার ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে তার নতুন করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
ওই দিনের সহিংসতায় শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের দৃশ্যমান উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজপথের রাজনীতিতে যার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত, সেই নেতার হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে তখন থেকেই নানা আলোচনা ছিল।
আর এখন নিউইয়র্ক থেকে তার “ডিসেম্বরে আসছি” ঘোষণা সেই পুরোনো আলোচনাতেই যেন নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক সংলাপগুলোর একটি ছিল—“খেলা হবে”। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে দেওয়া সেই বক্তব্য একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ‘খেলারাম’ হিসেবেই সমালোচকদের কাছে পরিচিতি পাওয়া শামীম ওসমান এবার সময়ও বলে দিয়েছেন—ডিসেম্বর।
তবে তিনি ডিসেম্বরের ঠিক কোন সময়ে, কীভাবে এবং কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে দেশে ফিরবেন—তা বক্তব্যে বিস্তারিত জানাননি। তার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কী রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ অবস্থায় তার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে তার বক্তব্যে রয়েছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার প্রত্যয়, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার আইনি বাস্তবতা।
ফলে শামীম ওসমানের ‘ডিসেম্বরে আসছি’—এই ঘোষণা আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। ডিসেম্বর এলে সেই ঘোষণা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, নাকি ‘খেলা হবে’র মতো এটিও রাজনৈতিক আলোচনার আরেকটি বহুল ব্যবহৃত সংলাপ হয়ে থাকে—সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত একেএম শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে একটি ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের ওই অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে শামীম ওসমানকে বলতে শোনা যায়, “জনগণের শক্তির ওপর, আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী হয়ে বলতে চাই-জাতির জনকের কন্যা যা বলেন তা করেন। আমরা ডিসেম্বরে আসছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আসছি।”
এরপর তিনি বলেন, “যে জনগণ মাঠে নামবে, সেই জনগণের সামনে কোনো ট্যাংক-কামান, জঙ্গি-ফঙ্গি কারও অস্তিত্ব থাকবে না।”
শামীম ওসমানের এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আওয়ামী লীগের এই সাবেক সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত এই নেতাকে দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। পরে তার ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি এবং বক্তব্য সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে তার নতুন করে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে।
ওই দিনের সহিংসতায় শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের দৃশ্যমান উপস্থিতি আর দেখা যায়নি। একসময় নারায়ণগঞ্জের রাজপথের রাজনীতিতে যার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত, সেই নেতার হঠাৎ অন্তর্ধান নিয়ে তখন থেকেই নানা আলোচনা ছিল।
আর এখন নিউইয়র্ক থেকে তার “ডিসেম্বরে আসছি” ঘোষণা সেই পুরোনো আলোচনাতেই যেন নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শামীম ওসমানের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক সংলাপগুলোর একটি ছিল—“খেলা হবে”। প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে দেওয়া সেই বক্তব্য একসময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ‘খেলারাম’ হিসেবেই সমালোচকদের কাছে পরিচিতি পাওয়া শামীম ওসমান এবার সময়ও বলে দিয়েছেন—ডিসেম্বর।
তবে তিনি ডিসেম্বরের ঠিক কোন সময়ে, কীভাবে এবং কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে দেশে ফিরবেন—তা বক্তব্যে বিস্তারিত জানাননি। তার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কী রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ অবস্থায় তার দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে তার বক্তব্যে রয়েছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার প্রত্যয়, অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার আইনি বাস্তবতা।
ফলে শামীম ওসমানের ‘ডিসেম্বরে আসছি’—এই ঘোষণা আপাতত রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে। ডিসেম্বর এলে সেই ঘোষণা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, নাকি ‘খেলা হবে’র মতো এটিও রাজনৈতিক আলোচনার আরেকটি বহুল ব্যবহৃত সংলাপ হয়ে থাকে—সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন