দৈনিক সোজা সাপটা

দীর্ঘ এক দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে

কাউন্সিলের আগেই কমিটি!



কাউন্সিলের আগেই কমিটি!
কাউন্সিলের আগেই কমিটি!

দীর্ঘ এক দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও এখনও কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে দলীয় সূত্র বলছে আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগোচ্ছে। এবার কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সারাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কাউন্সিলের আগেই কি আসছে নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি?
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৃণমূলভিত্তিক কাউন্সিল পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, থানা, জেলা হয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পন্ন হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব নির্ধারণের পরিবর্তে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনার খবর নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ওই কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে আহ্বায়ক করা হয়।
প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও শরীফ আহমেদ টুটুল।
কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে। তবে পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করা হয়।
এছাড়া ১০ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২৯ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি, যা দীর্ঘদিন ধরে মহানগরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, কেন্দ্র যেহেতু সাংগঠনিক পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই জাতীয় কাউন্সিলের আগেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যোগাযোগ, লবিং এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে বলেও জানা গেছে।
একাধিক নেতা মনে করছেন, নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে কর্মীসমর্থন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান,কেন্দ্রীয় বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করব। দল বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কাউন্সিল ও কমিটি সবকিছুই কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন,কমিটি গঠন বা পুনর্গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রের এখতিয়ার। আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কেন্দ্র যখন যে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেটি অনুসরণ করব।
জাতীয় কাউন্সিলের আগে জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠিত হলে তা বিএনপির নতুন সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর সেই প্রক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জেও নেতৃত্বের পরিবর্তন হলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


কাউন্সিলের আগেই কমিটি!

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ এক দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও এখনও কাউন্সিলের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবে দলীয় সূত্র বলছে আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগোচ্ছে। এবার কেন্দ্র থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সারাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় কাউন্সিলের আগেই কি আসছে নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি?
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৃণমূলভিত্তিক কাউন্সিল পদ্ধতি চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত নতুন পদ্ধতিতে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, থানা, জেলা হয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পন্ন হওয়ার পরই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন করা হবে। দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব নির্ধারণের পরিবর্তে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জাতীয় কাউন্সিলের আগেই জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের সম্ভাবনার খবর নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। ওই কমিটিতে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে আহ্বায়ক করা হয়।
প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও শরীফ আহমেদ টুটুল।
কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে। তবে পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করা হয়।
এছাড়া ১০ জন যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২৯ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি, যা দীর্ঘদিন ধরে মহানগরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, কেন্দ্র যেহেতু সাংগঠনিক পুনর্গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই জাতীয় কাউন্সিলের আগেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা হতে পারে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে যোগাযোগ, লবিং এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বেড়েছে বলেও জানা গেছে।
একাধিক নেতা মনে করছেন, নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে কর্মীসমর্থন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান,কেন্দ্রীয় বিএনপি যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটিই বাস্তবায়ন করব। দল বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কাউন্সিল ও কমিটি সবকিছুই কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন,কমিটি গঠন বা পুনর্গঠনের বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রের এখতিয়ার। আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কেন্দ্র যখন যে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেটি অনুসরণ করব।
জাতীয় কাউন্সিলের আগে জেলা ও মহানগর কমিটি পুনর্গঠিত হলে তা বিএনপির নতুন সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর সেই প্রক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জেও নেতৃত্বের পরিবর্তন হলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কাউন্সিলের আগেই কমিটি!
0:00 / 0:00
1x