দৈনিক সোজা সাপটা

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের

মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় যারা!



মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় যারা!
মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় যারা!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা এবং প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা, ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি মহানগর সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নতুন কমিটির আহ্বায়ক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষের পর নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন তিনি। পরে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াত ঘোষিত তৃতীয় দফার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ ১ নম্বর গেট এলাকায় মিছিল বের করার সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও মামলা মোকাবিলা করেও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
আহ্বায়ক পদে আবু আল ইউসুফ খান টিপু আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খোরশেদ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব সাংগঠনিক বলয় এবং কর্মীসমর্থনের কারণে এই দুই নেতাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদেও চলছে নানা আলোচনা। এ পদে বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মাকসুদুল আলম খোরশেদ এবং আবুল কাউসার আশা-র নামও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। একই ব্যক্তিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় থাকা থেকে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই বেশি আস্থা রাখছে।
শুধু পুরোনো নেতাদের নয়, নতুন নেতৃত্বকেও মূল্যায়নের চিন্তা করছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল-এর নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। মাঠপর্যায়ে তার সক্রিয়তা এবং তরুণ কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করেন, মাকসুদুল আলম খোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬টি মামলা হলেও তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও না পেলেও মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই শেষ পর্যন্ত কাজ করেন।
একইভাবে আবুল কাউসার আশা এবং ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন-ও বিভিন্ন সময়ে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। অন্যদিকে যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এরও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকার কথা নেতাকর্মীরা উল্লেখ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই সময় নতুন কমিটিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও মহানগর কমিটি সাংগঠনিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি।
বিশেষ করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিট কমিটি গঠনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হলেও বর্তমান কমিটি এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
যেসব ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য, গ্রুপিং এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রাধান্য পেয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রুপিং একটি বড় সমস্যা হিসেবে পরিচিত। বর্তমান কমিটির সময়েও বিভিন্ন নেতা নিজস্ব বলয় তৈরি করে আলাদা কর্মসূচি পালন করায় সাংগঠনিক ঐক্যে প্রভাব পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতার কারণে সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরেও এসেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপি এমন একটি নেতৃত্ব চায়, যারা নিয়মিত মাঠে থাকবে, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে এমন নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে যারা শুধু পদধারী নন, বরং রাজপথের পরীক্ষিত ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব। তাদের মতে, শুধু কমিটি ঘোষণা করলেই হবে না, সংগঠনকে সক্রিয় করতে হলে মাঠে থেকে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
যদিও বিভিন্ন নাম এখন আলোচনায় রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্ত আসবে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনুমোদনের মাধ্যমেই। স্থানীয় নেতাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি শুধু একটি সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দলীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে—কারা পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব, আর সেই নেতৃত্ব কতটা সফলভাবে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় যারা!

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা এবং প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা, ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের পর কেন্দ্রীয় বিএনপি মহানগর সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
নতুন কমিটির আহ্বায়ক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে ধারণা রয়েছে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষের পর নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন তিনি। পরে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াত ঘোষিত তৃতীয় দফার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ ১ নম্বর গেট এলাকায় মিছিল বের করার সময় তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও মামলা মোকাবিলা করেও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
আহ্বায়ক পদে আবু আল ইউসুফ খান টিপু আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুল আলম খোরশেদ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব সাংগঠনিক বলয় এবং কর্মীসমর্থনের কারণে এই দুই নেতাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদেও চলছে নানা আলোচনা। এ পদে বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মাকসুদুল আলম খোরশেদ এবং আবুল কাউসার আশা-র নামও বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে। একই ব্যক্তিদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় থাকা থেকে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের ওপরই বেশি আস্থা রাখছে।
শুধু পুরোনো নেতাদের নয়, নতুন নেতৃত্বকেও মূল্যায়নের চিন্তা করছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল-এর নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। মাঠপর্যায়ে তার সক্রিয়তা এবং তরুণ কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কারণে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করেন, মাকসুদুল আলম খোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬টি মামলা হলেও তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেও না পেলেও মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই শেষ পর্যন্ত কাজ করেন।
একইভাবে আবুল কাউসার আশা এবং ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন-ও বিভিন্ন সময়ে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। অন্যদিকে যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এরও মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকার কথা নেতাকর্মীরা উল্লেখ করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক এবং আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। সেই সময় নতুন কমিটিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও মহানগর কমিটি সাংগঠনিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের দাবি।
বিশেষ করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওয়ার্ড, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিট কমিটি গঠনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখা হলেও বর্তমান কমিটি এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
যেসব ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য, গ্রুপিং এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রাধান্য পেয়েছে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রুপিং একটি বড় সমস্যা হিসেবে পরিচিত। বর্তমান কমিটির সময়েও বিভিন্ন নেতা নিজস্ব বলয় তৈরি করে আলাদা কর্মসূচি পালন করায় সাংগঠনিক ঐক্যে প্রভাব পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতার কারণে সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরেও এসেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপি এমন একটি নেতৃত্ব চায়, যারা নিয়মিত মাঠে থাকবে, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে এবং দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে এমন নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে যারা শুধু পদধারী নন, বরং রাজপথের পরীক্ষিত ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব। তাদের মতে, শুধু কমিটি ঘোষণা করলেই হবে না, সংগঠনকে সক্রিয় করতে হলে মাঠে থেকে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।
যদিও বিভিন্ন নাম এখন আলোচনায় রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্ত আসবে কেন্দ্রীয় বিএনপির অনুমোদনের মাধ্যমেই। স্থানীয় নেতাদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি শুধু একটি সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দলীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের দিকে—কারা পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব, আর সেই নেতৃত্ব কতটা সফলভাবে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
মহানগর বিএনপিতে আলোচনায় যারা!
0:00 / 0:00
1x