দৈনিক সোজা সাপটা

দেশের কারাগারগুলোতে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ চালু হচ্ছে বন্দিদের। তবে নিবন্ধিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভিডিও

বন্দিদের ভিডিও কলের সুযোগ চালু হচ্ছে



বন্দিদের ভিডিও কলের সুযোগ চালু হচ্ছে
বন্দিদের ভিডিও কলের সুযোগ চালু হচ্ছে

দেশের কারাগারগুলোতে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ চালু হচ্ছে বন্দিদের। তবে নিবন্ধিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভিডিও কলে যুক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইন কেটে যাবে। এছাড়াও বন্দিদের সব কথোপকথন রেকর্ড করা হবে।
গত ৫ জুলাই সাবেক আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহার হোসেন মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি-স্বজনদের ভিডিও কলে কথা বলার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
শিগগিরই এ কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে নির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্যান্য কারাগারেও এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জ কারাগারের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি উদ্বোধন হলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। শিগগিরই মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নতুন বন্দিদের ভোরবেলায় যেখানে গণনা করা হয়, সেই কেস টেবিলে বন্দিরা বসে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন।
বর্তমানে বন্দিরা মুঠোফোনে স্বজনদের সঙ্গে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় কথা বলতে পারেন। বাটন ফোনে বর্তমানে সপ্তাহে একদিন বন্দিরা ১০ মিনিট করে কথা বলেন। প্রায় প্রতিদিনই ২০০ থেকে ২৫০ জন বন্দি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
নতুন পদ্ধতিতে অ্যাপের মাধ্যমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানে থাকা একটি ডিভাইস ব্যবহার করে বন্দিদের ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
কারা ক্যান্টিনের কেনাকাটায়ও যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি
কারাবন্দিদের ক্যান্টিন থেকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে একটি বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে বন্দিদের ক্যান্টিন থেকে খাবার কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বজনরা নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দির হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। এরপর কোনো বন্দি ক্যান্টিন থেকে কোনো খাবার কিনলে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে তার হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্টিনে ব্যবহারের জন্য দেওয়া ডিভাইসটি দেখতে অনেকটা হাতঘড়ির মতো। এ ডিভাইসে বন্দিদের কেনাকাটার হিসাব সংরক্ষণ ও লেনদেন সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
কারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক পরিবার খুবই গরিব। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক টাকা খরচ করে স্বজনদের দেখতে কারাগারে আসতে হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক ও অসুস্থ। তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে একনজর দেখতে চান। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কারা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, কারাগারের নিজস্ব অ্যাপে বন্দিদের পরিবারের বাবা, মা, ভাই ও বোনের নাম আগে থেকেই নিবন্ধন করে রাখা হবে। বন্দি যখন মোবাইলের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলবেন, তখন নিবন্ধিত ব্যক্তির বাইরে অন্য কেউ মোবাইলের ক্যামেরার সামনে আসলেই এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলটি কেটে যাবে। একই সঙ্গে বন্দিদের সব কথোপকথন রেকর্ড করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কারাগারের ভেতরে কম্পিউটারের মাধ্যমে খাবার কেনার প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও দুর্নীতির সুযোগ থাকায় ব্যবস্থাটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে এ কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যবস্থায় আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কালো রঙের ঘড়ির মতো দেখতে একটি ডিভাইসের মাধ্যমে বন্দিরা খাবার কিনতে পারবেন। ডিভাইসের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিশেষ শ্রেণির বন্দি ও রাজনৈতিক মামলার আসামিদের ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। কোন বন্দি কতক্ষণ এবং কীভাবে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশে বর্তমানে ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রীয় কারাগার। এসব কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি।
দেশের ৭৪টি কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে এই নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


বন্দিদের ভিডিও কলের সুযোগ চালু হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের কারাগারগুলোতে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ চালু হচ্ছে বন্দিদের। তবে নিবন্ধিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ ভিডিও কলে যুক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইন কেটে যাবে। এছাড়াও বন্দিদের সব কথোপকথন রেকর্ড করা হবে।
গত ৫ জুলাই সাবেক আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহার হোসেন মুন্সীগঞ্জ কারাগারে বন্দি-স্বজনদের ভিডিও কলে কথা বলার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
শিগগিরই এ কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে নির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্যান্য কারাগারেও এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জ কারাগারের একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি উদ্বোধন হলেও ভিডিও কলের মাধ্যমে বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। শিগগিরই মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
নতুন বন্দিদের ভোরবেলায় যেখানে গণনা করা হয়, সেই কেস টেবিলে বন্দিরা বসে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলবেন।
বর্তমানে বন্দিরা মুঠোফোনে স্বজনদের সঙ্গে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় কথা বলতে পারেন। বাটন ফোনে বর্তমানে সপ্তাহে একদিন বন্দিরা ১০ মিনিট করে কথা বলেন। প্রায় প্রতিদিনই ২০০ থেকে ২৫০ জন বন্দি স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
নতুন পদ্ধতিতে অ্যাপের মাধ্যমে কারাগারের নির্ধারিত স্থানে থাকা একটি ডিভাইস ব্যবহার করে বন্দিদের ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।
কারা ক্যান্টিনের কেনাকাটায়ও যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি
কারাবন্দিদের ক্যান্টিন থেকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে একটি বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে বন্দিদের ক্যান্টিন থেকে খাবার কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বজনরা নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে বন্দির হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। এরপর কোনো বন্দি ক্যান্টিন থেকে কোনো খাবার কিনলে ওই ডিভাইসের মাধ্যমে তার হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্টিনে ব্যবহারের জন্য দেওয়া ডিভাইসটি দেখতে অনেকটা হাতঘড়ির মতো। এ ডিভাইসে বন্দিদের কেনাকাটার হিসাব সংরক্ষণ ও লেনদেন সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
কারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করার পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক পরিবার খুবই গরিব। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক টাকা খরচ করে স্বজনদের দেখতে কারাগারে আসতে হয়। তাদের মধ্যে অনেকেই বয়স্ক ও অসুস্থ। তারা তাদের আত্মীয়-স্বজনকে একনজর দেখতে চান। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কারা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, কারাগারের নিজস্ব অ্যাপে বন্দিদের পরিবারের বাবা, মা, ভাই ও বোনের নাম আগে থেকেই নিবন্ধন করে রাখা হবে। বন্দি যখন মোবাইলের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলবেন, তখন নিবন্ধিত ব্যক্তির বাইরে অন্য কেউ মোবাইলের ক্যামেরার সামনে আসলেই এআইয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলটি কেটে যাবে। একই সঙ্গে বন্দিদের সব কথোপকথন রেকর্ড করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কারাগারের ভেতরে কম্পিউটারের মাধ্যমে খাবার কেনার প্রচলিত পদ্ধতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও দুর্নীতির সুযোগ থাকায় ব্যবস্থাটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ কারাগারে এ কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যবস্থায় আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কালো রঙের ঘড়ির মতো দেখতে একটি ডিভাইসের মাধ্যমে বন্দিরা খাবার কিনতে পারবেন। ডিভাইসের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিশেষ শ্রেণির বন্দি ও রাজনৈতিক মামলার আসামিদের ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়েও নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। কোন বন্দি কতক্ষণ এবং কীভাবে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশে বর্তমানে ৭৪টি কারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রীয় কারাগার। এসব কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি।
দেশের ৭৪টি কারাগারের প্রশাসনিক কার্যক্রম ঢাকার বকশীবাজারে অবস্থিত কারা অধিদপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে এই নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত আইজি প্রিজন।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বন্দিদের ভিডিও কলের সুযোগ চালু হচ্ছে
0:00 / 0:00
1x