আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগে চলমান তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এসব মামলার মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রসিকিউশন। এ মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে চলমান এসব মামলায় এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের কর্মকর্তা এবং গুমের শিকার ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের নানা বর্ণনা উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রায় দুই শতাধিক গুমের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আরও অল্প কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই-একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসিকিউশনের হাতে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এসেছে বলেও জানান তিনি।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, র্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে র্যাব, ডিজিএফআই ও বিজিবিতে দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
সাক্ষ্যে ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও জানান, তিনি সেনা সদস্যদের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে সতর্ক করতেন। র্যাবে থাকা সেনা সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্যে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।
ইমরুল কায়েস জানান, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে প্রায় এক বছর তিন-চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, র্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আনা ব্যক্তিদের গুলি ও ইনজেকশন প্রয়োগসহ বিভিন্ন উপায়ে হত্যা করা হতো।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, দেশের জন্য শপথ নিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া একজন সৈনিক হিসেবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার জন্য তিনি প্রস্তুত হননি। তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে হত্যার ঘটনা দেখেছেন।
গুমের শিকার চিকিৎসক ডা. আশিক উল আকবরও ট্রাইব্যুনালে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন।
সাক্ষ্যে তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৩ মে রাত সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীতে তাঁর মামার বাড়িতে অবস্থানের সময় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তাঁকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এরপর মাথায় কাপড় পরিয়ে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, গাড়িতে তাঁর চোখ শক্ত করে বাঁধা ছিল। পরে তাঁকে একটি ঘেরা স্থানে নিয়ে গিয়ে হাতকড়া পরানো হয় এবং দীর্ঘ সময় সেখানে আটকে রাখা হয়। খাবার গ্রহণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে সাক্ষ্যে জানান তিনি।
ডা. আশিকের বর্ণনা অনুযায়ী, টয়লেট ব্যবহার ও গোসলের জন্যও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের বেশি হলে মারধর করা হতো।
একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি। অস্বীকার করায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে গামছার সঙ্গে হুক লাগিয়ে একটি যন্ত্রের সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
পরে তাঁর দুই কানের লতিতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলে জানান ডা. আশিক। একপর্যায়ে নির্যাতনের ভয়ে তাঁকে যা বলতে বলা হয়, তা স্বীকার করতে বাধ্য হন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রায় ৬০ দিন পর তাঁকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে র্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চোখ ও হাতের বাঁধন খুলে বিভিন্ন অস্ত্র, নাট-বল্টু ও বই সাজিয়ে ছবি তোলা হয় বলে জানান তিনি।
ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে গুমসংক্রান্ত তিনটি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। মামলার ১০ আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন এবং সাতজন পলাতক।
ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার অভিযোগে করা মামলায় আসামি ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ বাকি ১০ আসামি পলাতক।
অন্য মামলাটি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ জাতীয় টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গুমসংক্রান্ত জেআইসি ও টিএফআইয়ের মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণও নিয়মিতভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তাঁর মতে, এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতের সামনে আসছে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগে চলমান তিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। এসব মামলার মধ্যে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রসিকিউশন। এ মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে চলমান এসব মামলায় এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান, সেনাবাহিনী ও পুলিশের কর্মকর্তা এবং গুমের শিকার ব্যক্তিরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্যে গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের নানা বর্ণনা উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রায় দুই শতাধিক গুমের অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য আরও অল্প কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এরপর বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ আরও দুই-একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসিকিউশনের হাতে এ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এসেছে বলেও জানান তিনি।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, র্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনা শুনে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে র্যাব, ডিজিএফআই ও বিজিবিতে দায়িত্ব পালনের আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
সাক্ষ্যে ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও জানান, তিনি সেনা সদস্যদের মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে সতর্ক করতেন। র্যাবে থাকা সেনা সদস্যদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্যে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে।
ইমরুল কায়েস জানান, জিয়াউল আহসানের সঙ্গে প্রায় এক বছর তিন-চার মাস বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, র্যাব-১-এর টিএফআই সেল থেকে আনা ব্যক্তিদের গুলি ও ইনজেকশন প্রয়োগসহ বিভিন্ন উপায়ে হত্যা করা হতো।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, দেশের জন্য শপথ নিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া একজন সৈনিক হিসেবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার জন্য তিনি প্রস্তুত হননি। তাঁর দাবি, ওই সময় তিনি ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে হত্যার ঘটনা দেখেছেন।
গুমের শিকার চিকিৎসক ডা. আশিক উল আকবরও ট্রাইব্যুনালে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন।
সাক্ষ্যে তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৩ মে রাত সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গীতে তাঁর মামার বাড়িতে অবস্থানের সময় কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি দরজায় কড়া নাড়েন। দরজা খোলার পর তাঁকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এরপর মাথায় কাপড় পরিয়ে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, গাড়িতে তাঁর চোখ শক্ত করে বাঁধা ছিল। পরে তাঁকে একটি ঘেরা স্থানে নিয়ে গিয়ে হাতকড়া পরানো হয় এবং দীর্ঘ সময় সেখানে আটকে রাখা হয়। খাবার গ্রহণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে সাক্ষ্যে জানান তিনি।
ডা. আশিকের বর্ণনা অনুযায়ী, টয়লেট ব্যবহার ও গোসলের জন্যও নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের বেশি হলে মারধর করা হতো।
একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়ে একটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি। অস্বীকার করায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে গামছার সঙ্গে হুক লাগিয়ে একটি যন্ত্রের সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তিনি।
পরে তাঁর দুই কানের লতিতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয় বলে জানান ডা. আশিক। একপর্যায়ে নির্যাতনের ভয়ে তাঁকে যা বলতে বলা হয়, তা স্বীকার করতে বাধ্য হন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রায় ৬০ দিন পর তাঁকে আরও কয়েকজনের সঙ্গে র্যাব-১-এর মিডিয়া সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চোখ ও হাতের বাঁধন খুলে বিভিন্ন অস্ত্র, নাট-বল্টু ও বই সাজিয়ে ছবি তোলা হয় বলে জানান তিনি।
ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে গুমসংক্রান্ত তিনটি মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। মামলার ১০ আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন এবং সাতজন পলাতক।
ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুম করে রাখার অভিযোগে করা মামলায় আসামি ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। শেখ হাসিনাসহ বাকি ১০ আসামি পলাতক।
অন্য মামলাটি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এ মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ জাতীয় টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা এনটিএমসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে গুমসংক্রান্ত জেআইসি ও টিএফআইয়ের মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণও নিয়মিতভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তাঁর মতে, এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গুমের অভিযোগগুলোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতের সামনে আসছে।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন