দৈনিক সোজা সাপটা

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলচালিত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ



তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলচালিত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বাড়তি সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে একদিকে লোডশেডিংয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও জ্বালানি সংকট, বকেয়া বিলসহ নানা কারণে সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো এলাকায় দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও উঠেছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এখন গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কেন্দ্রগুলোর পরিবর্তে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জমে থাকা বিল পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কেন্দ্র মালিকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সরকার তাদের জানিয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ করা হলে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের বকেয়া থাকায় অনেক কেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারেনি। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ হলে প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমবে।
বিপ্পার হিসাবে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। গড়ে প্রায় ছয় মাসের বিল পরিশোধ হয়নি। এসব অর্থ পরিশোধ করা গেলে কেন্দ্রগুলো দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করে উৎপাদন বাড়াতে পারবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। এ ছাড়া কয়লা, ডিজেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আমদানি করা বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বর্তমানে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোকে প্রায় ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তা আরও বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুদের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে শিল্প খাতের সংকটও অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরকার তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছুটা কম গ্যাস ব্যবহার করে সেই গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বর্তমান সংকটের সময়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প—দুই খাতকে একসঙ্গে সচল রাখতেই এই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যাতে জ্বালানি সংকটে বন্ধ না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করা গেলে সেগুলো দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তাও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে মেরামতের মাধ্যমে সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হলেও এলএনজি মজুদ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক ৭৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। ওই সময়ে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হলেও শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, লোডশেডিং কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। আর কেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে আগামী কয়েক সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প খাতেও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলচালিত বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বাড়তি সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে একদিকে লোডশেডিংয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও জ্বালানি সংকট, বকেয়া বিলসহ নানা কারণে সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহে। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো এলাকায় দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও উঠেছে। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এখন গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কেন্দ্রগুলোর পরিবর্তে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জমে থাকা বিল পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কেন্দ্র মালিকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করে দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে সরকার তাদের জানিয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বকেয়া পরিশোধ করা হলে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, দীর্ঘদিনের বকেয়া থাকায় অনেক কেন্দ্র প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারেনি। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহৃত রয়েছে। বকেয়া পরিশোধ হলে প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কমবে।
বিপ্পার হিসাবে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। গড়ে প্রায় ছয় মাসের বিল পরিশোধ হয়নি। এসব অর্থ পরিশোধ করা গেলে কেন্দ্রগুলো দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করে উৎপাদন বাড়াতে পারবে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। এ ছাড়া কয়লা, ডিজেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আমদানি করা বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বর্তমানে ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্রগুলোকে প্রায় ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তা আরও বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) পর্যাপ্ত ফার্নেস অয়েল মজুদের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আমদানিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে শিল্প খাতের সংকটও অন্যতম কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরকার তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছুটা কম গ্যাস ব্যবহার করে সেই গ্যাস শিল্পকারখানায় সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়লে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বর্তমান সংকটের সময়ে বিদ্যুৎ ও শিল্প—দুই খাতকে একসঙ্গে সচল রাখতেই এই সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যাতে জ্বালানি সংকটে বন্ধ না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করা গেলে সেগুলো দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহ করে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে এলএনজি সরবরাহের অনিশ্চয়তাও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে মেরামতের মাধ্যমে সরবরাহ আংশিক স্বাভাবিক হলেও এলএনজি মজুদ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক ৭৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। ওই সময়ে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হলেও শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, লোডশেডিং কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাত সচল রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। আর কেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে আগামী কয়েক সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লোডশেডিংয়ের চাপ কমার পাশাপাশি শিল্প খাতেও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ
0:00 / 0:00
1x