নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডকইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মালিককে মারধরের ঘটনায় শেখ সিফাত ওরফে কাটা সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযোগের মূল দুই আসামি আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ এবং তার সহযোগী আরিফ এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন। ঘটনার আট দিন পার হলেও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন ডকইয়ার্ডের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৪ আগস্ট সকালে বন্দরের বক্তারকান্দি এলাকায় একটি ডকইয়ার্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, একদল লোক ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করে গেট ভাঙচুরের পর ভেতরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ ও লুট করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও মারধর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন আমজাদ ওরফে বল্টু আমজাদ, তার দুই ছেলে আপন ও হৃদয়, সহযোগী আরিফসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাকে অফিস থেকে বের করে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইমান খানকে ডকইয়ার্ডের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে সিফাত ওরফে কাটা সিফাত এবং আমজাদের দুই ছেলে হৃদয় ও আপনকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আমজাদ ও তার সহযোগী আরিফ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ডকইয়ার্ড মালিকপক্ষের অভিযোগ, আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার কথাও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে এলাকার পুরোনো সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আশপাশের একটি ঝুটের গুদাম ও ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানানোর পর থেকেই মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত চাঁদার স্লিপ ও অন্যান্য কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর আমজাদ ও আরিফকে গ্রেপ্তার না করায় ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা বাইরে থাকায় আবারও হামলা কিংবা হুমকির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই ঘটনায় একজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও অভিযোগের অন্যতম দুই আসামি এখনো কেন বাইরে রয়েছেন। দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমজাদ ও আরিফকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ডকইয়ার্ড মালিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ডকইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মালিককে মারধরের ঘটনায় শেখ সিফাত ওরফে কাটা সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযোগের মূল দুই আসামি আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ এবং তার সহযোগী আরিফ এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছেন। ঘটনার আট দিন পার হলেও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন ডকইয়ার্ডের মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৪ আগস্ট সকালে বন্দরের বক্তারকান্দি এলাকায় একটি ডকইয়ার্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ। তাদের দাবি, একদল লোক ডকইয়ার্ডে প্রবেশ করে গেট ভাঙচুরের পর ভেতরের বিভিন্ন মালামাল তছনছ ও লুট করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও মারধর করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন আমজাদ ওরফে বল্টু আমজাদ, তার দুই ছেলে আপন ও হৃদয়, সহযোগী আরিফসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার সময় ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাকে অফিস থেকে বের করে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইমান খানকে ডকইয়ার্ডের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে সিফাত ওরফে কাটা সিফাত এবং আমজাদের দুই ছেলে হৃদয় ও আপনকে গ্রেপ্তার করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে আমজাদ ও তার সহযোগী আরিফ এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ডকইয়ার্ড মালিকপক্ষের অভিযোগ, আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র, হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকার কথাও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে এলাকার পুরোনো সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে আশপাশের একটি ঝুটের গুদাম ও ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানানোর পর থেকেই মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সংক্রান্ত চাঁদার স্লিপ ও অন্যান্য কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর আমজাদ ও আরিফকে গ্রেপ্তার না করায় ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অভিযুক্তরা বাইরে থাকায় আবারও হামলা কিংবা হুমকির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই ঘটনায় একজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও অভিযোগের অন্যতম দুই আসামি এখনো কেন বাইরে রয়েছেন। দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমজাদ ও আরিফকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ডকইয়ার্ড মালিক ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Safari-র নিচের Share (⬆) বাটনে চাপুন, তারপর "Add to Home Screen" বেছে নিন।
আপনার মতামত লিখুন