দৈনিক সোজা সাপটা

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি

দেশীয় গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর



দেশীয় গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর
দেশীয় গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ১০ বছরের জন্য সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো আধুনিকায়ন, শিল্প ও কৃষিতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক সমাবেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কথা জানান। সংসদে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোতে চায় সরকার।
পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে দেশে নতুন গ্যাসের মজুত অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো। পেট্রোবাংলার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সাল নাগাদ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। এ সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্য পূরণে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে স্থলভাগে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ১০০টি কূপ খনন বা সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাপেক্স ৫২ থেকে ৬৮টি কূপের দায়িত্ব নিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্যও বিবেচনায় রয়েছে। এসব কার্যক্রম সফল হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে আরও সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গভীর কূপ খনন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিডিং কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে গ্যাস অনুসন্ধানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। কূপের গভীরতা ও ধরন অনুযায়ী একটি কূপ খননে কয়েকশ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকেও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। তেল, গ্যাস ও এলএনজি আমদানি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কোম্পানিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের সুযোগ দিতে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একইভাবে এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারি বাল্ক আমদানির সঙ্গে বেসরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক বড় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণেও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য সবুজ জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।
আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে একদিকে কৃষিতে ডিজেলের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির ওপর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় কমাতে পুরোনো চুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করার নীতিতে এগোনোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের যে ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা রয়েছে, সেটির চাপ কমাতেও নতুন চুক্তিতে কঠোর শর্ত আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়’—এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও দূর করতে চায় সরকার। এজন্য পুরোনো সঞ্চালন লাইন ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি আধুনিক ‘স্মার্ট গ্রিড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাড়াতে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন জ্বালানি পরিকল্পনায় শিল্প ও কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া ঠেকাতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
একইভাবে সেচ মৌসুমে কৃষকদের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। সরকার মনে করছে, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগও বাড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সঞ্চালন অবকাঠামোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের লক্ষ্য, আগামী এক দশকে জ্বালানি খাতকে আরও স্থিতিশীল করা এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো। সংসদে পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের পর এর বাস্তবায়ন কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সোজা সাপটা

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


দেশীয় গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী ১০ বছরের জন্য সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো আধুনিকায়ন, শিল্প ও কৃষিতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক সমাবেশে আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কথা জানান। সংসদে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোতে চায় সরকার।
পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে দেশে নতুন গ্যাসের মজুত অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো। পেট্রোবাংলার প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ সাল নাগাদ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ৬৫৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। এ সময় দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ৪ হাজার ৩৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্য পূরণে নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপে ওয়ার্কওভার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে স্থলভাগে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ১০০টি কূপ খনন বা সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাপেক্স ৫২ থেকে ৬৮টি কূপের দায়িত্ব নিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্যও বিবেচনায় রয়েছে। এসব কার্যক্রম সফল হলে জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে বাপেক্সকে আরও সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। গভীর কূপ খনন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থলভাগের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অফশোর ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিডিং কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে গ্যাস অনুসন্ধানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। কূপের গভীরতা ও ধরন অনুযায়ী একটি কূপ খননে কয়েকশ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকেও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। তেল, গ্যাস ও এলএনজি আমদানি এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কোম্পানিকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনের সুযোগ দিতে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। একইভাবে এলপিজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারি বাল্ক আমদানির সঙ্গে বেসরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক বড় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণেও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ ও অন্যান্য সবুজ জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।
আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর ফলে একদিকে কৃষিতে ডিজেলের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আমদানির ওপর চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় কমাতে পুরোনো চুক্তিগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি না করার নীতিতে এগোনোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের যে ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা রয়েছে, সেটির চাপ কমাতেও নতুন চুক্তিতে কঠোর শর্ত আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘বিদ্যুৎ না দিলে বিল নয়’—এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও দূর করতে চায় সরকার। এজন্য পুরোনো সঞ্চালন লাইন ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি আধুনিক ‘স্মার্ট গ্রিড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ বাড়াতে আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। এতে তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন জ্বালানি পরিকল্পনায় শিল্প ও কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া ঠেকাতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
একইভাবে সেচ মৌসুমে কৃষকদের পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। সরকার মনে করছে, শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগও বাড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সঞ্চালন অবকাঠামোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের লক্ষ্য, আগামী এক দশকে জ্বালানি খাতকে আরও স্থিতিশীল করা এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দেশীয় উৎস ও নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো। সংসদে পরিকল্পনাটি উপস্থাপনের পর এর বাস্তবায়ন কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


দৈনিক সোজা সাপটা

সম্পাদক :
আবু সাউদ মাসুদ

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দেশীয় গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর
0:00 / 0:00
1x