নারায়ণগঞ্জের বন্দরের প্রায় ৭০ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন মদনগঞ্জ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এ টানা আট বছর ধরে কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠনের সদস্য ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটির পরিবর্তে দায়িত্ব পরিচালিত হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যে সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট মদনগঞ্জ এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই ঘটনার পর সাবেক কমিটি দায়িত্ব ও ক্ষমতা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির কাছে হস্তান্তর করে।
পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং বসুন্ধরা গ্রুপের অনুদানে নির্মাণাধীন কমিউনিটি সেন্টারের আরসিসি পাইলিং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।
বর্তমানে মো. জসিম উদ্দিন খান আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জোবায়ের হোসেন নিপু, সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর, হাজী আমজাদ হোসেন, জয়নাল আবেদিন মাতবর, আজিজুল হক আজি, হাজী গনী প্রধান, মেহেদী হাসান পনির, মামসাদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন মন্টু, হুমায়ূন কবির ও আবুল বাসার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করলেও নির্বাচন আয়োজনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে আট বছর ধরে সংগঠনটি নির্বাচিত নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম, জবাবদিহিতা ও সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন খান বলেন, পূর্বের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা প্রায় ছয় বছর দায়িত্বে ছিলেন। ৫ আগস্টের পরে তাদের অনিয়মের জেরে জনরোষ তৈরি হয়, এরপর সেই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর সংঘটনের সদস্যদের সম্মতিক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে আমরা সংগঠনের সংস্কার, হিসাব-নিকাশ ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করি। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে বিভিন্ন সময়ে বন্দর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে চিঠি জমা দিয়েছি। সমাজসেবা অধিদপ্তর যখনই নির্বাচনের আয়োজন করবে, তখনই আমরা প্রস্তুত আছি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এতদিন নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি বলে তারা আমাদের জানিয়েছে।
বন্দর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল বলেন, আহ্বায়ক কমিটির চিঠি আমরা গত মাসে পেয়েছি। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিষয়টি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জেলা অফিস থেকে নির্দেশনা পেলেই নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তবে এসব ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাদের দাবি, আট বছর ধরে নির্বাচন না হওয়া একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠনের জন্য অস্বাভাবিক। দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে সদস্যদের ভোটে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন এবং সংগঠনের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :